অনুপ্রবেশ রুখতে সীমান্তে বিষাক্ত সাপ-কুমির ছাড়ার প্রস্তাব BSF র

নয়াদিল্লি: একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক প্রযুক্তির যুগে দাঁড়িয়ে হঠাৎ করেই যেন ইতিহাসের পাতায় ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত(BSF crocodile deployment)। প্রাচীনকালে দুর্গ রক্ষায় পরিখায় কুমির ছেড়ে দেওয়ার যে কৌশলের ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
BSF Border Smuggling Crackdown

নয়াদিল্লি: একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক প্রযুক্তির যুগে দাঁড়িয়ে হঠাৎ করেই যেন ইতিহাসের পাতায় ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত(BSF crocodile deployment)। প্রাচীনকালে দুর্গ রক্ষায় পরিখায় কুমির ছেড়ে দেওয়ার যে কৌশলের কথা সবাই পড়েছে, এবার সেই ভাবনাকেই বাস্তবে প্রয়োগ করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে বিএসএফ। লক্ষ্য ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের দুর্গম নদীপথ ও জলাভূমি এলাকাকে আরও সুরক্ষিত করা এবং অনুপ্রবেশ আটকানো।

ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে প্রায় ৪,০৯৬.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের বড় অংশই নদী, খাল ও জলাভূমি বেষ্টিত। এই ধরনের এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া প্রায় অসম্ভব। ফলে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও অবৈধ কার্যকলাপ রোধ করা সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বাস্তবতা থেকেই ‘প্রকৃতিকে ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করার চিন্তা সামনে এসেছে।

   

আরও দেখুনঃ আটক মার্কিন ফাইটার পাইলট! দাবি ইরানের

সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশনার ভিত্তিতে বিএসএফ ইতিমধ্যেই একটি গোপন মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। গত ২৬ মার্চ ইস্টার্ন ও নর্থ-ইস্টার্ন সেক্টরের সদর দফতরে পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়েছে যেসব নদীপথ বা পাহাড়ি ছড়ায় ফেন্সিং করা সম্ভব নয়, সেখানে অপারেশনাল প্রয়োজনে কুমির বা সাপ মোতায়েন করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখতে।

এই ভাবনার সঙ্গে আন্তর্জাতিক স্তরেও কিছু মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একসময় মেক্সিকো সীমান্তে রিও গ্র্যান্ডে নদীতে কুমির ব্যবহারের ধারণা দিয়েছিলেন, যদিও পরে সেটিকে রসিকতা বলে উড়িয়ে দেন। আবার ফ্লোরিডার কিছু ডিটেনশন সেন্টারের চারপাশে প্রাকৃতিকভাবেই কুমির ও অজগরের উপস্থিতি নিরাপত্তার এক অদৃশ্য স্তর তৈরি করে যা পালানোর সম্ভাবনাকে অনেকটাই কমিয়ে দেয়।

তবে ভারতের ক্ষেত্রে বিষয়টি নিছক কৌতুক নয়, বরং বাস্তব নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে যখন বিএসএফ একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। প্রায় ৬,২০০ কিলোমিটার সীমান্ত পাহারায় নিয়োজিত প্রায় ২.৬৫ লাখ কর্মীর একটি বড় অংশকে প্রায়শই নির্বাচন বা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার কাজে সরিয়ে নেওয়া হয়। ফলে সীমান্তে জনবল ঘাটতি তৈরি হয়।

এছাড়া বাহিনীর প্রায় ২০ শতাংশ সদস্যের বয়স ৪৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে এবং আরও প্রায় ২০ শতাংশ সদস্য পুরোপুরি শারীরিকভাবে ফিট নন। এই পরিস্থিতিতে প্রযুক্তি ও বিকল্প কৌশলের ওপর নির্ভরতা বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই বলেই মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বিএসএফ-কে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে। ‘ই-বর্ডার’ বা ইলেকট্রনিক নজরদারি ব্যবস্থাও ধাপে ধাপে চালু করা হচ্ছে। তবুও এখনও প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা বেড়াহীন রয়ে গেছে, যার মধ্যে প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার নদী ও জলাভূমি অঞ্চল যেখানে প্রচলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করা কঠিন।

এই কারণেই মূলত ওইসব এলাকাতেই কুমির ও সাপ মোতায়েনের মতো অপ্রচলিত কিন্তু কঠোর পদ্ধতির কথা ভাবা হচ্ছে। যদিও এই পরিকল্পনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং বাস্তবে তা কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.