
সাসারাম (বিহার): বিহারের রোহতাস জেলার রাজপুর ব্লকের রামুদিহ গ্রামে উন্নীত উর্দু মিডল স্কুলে (Bihar school)একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্কুলের একটি ক্লাসরুমের আলমারির ভিতরে কালো পলিথিনের ব্যাগে সাত কিলোগ্রামেরও বেশি সন্দেহজনক গোমাংস পাওয়া গিয়েছে। অভিভাবক ও স্থানীয় গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেছেন যে, এই মাংস মিড-ডে মিলে শিশুদের খাওয়ানোর জন্য রাখা হয়েছিল।
ঘটনার পরপরই স্কুলের ইন-চার্জ প্রধান শিক্ষকসহ পাঁচ মুসলিম শিক্ষককে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং তাদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে ২২ এপ্রিল সকালে, যখন স্কুল খোলার পর ক্লাসরুম পরিদর্শন করতে গিয়ে অভিভাবক ও গ্রামবাসীরা আলমারির ভিতর তিনটি কালো পলিথিনের ব্যাগে মাংস দেখতে পান। খবর ছড়িয়ে পড়তেই শতাধিক গ্রামবাসী স্কুল চত্বরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
আরও দেখুনঃ ইস্টবেঙ্গলে ধাক্কা, দুই ম্যাচে নির্বাসিত মিগুয়েল ফিগুয়েরা বড় সমস্যায়
তারা চিৎকার করে বলেন, “এটা গোমাংস, হিন্দু শিশুদের ধর্ম নষ্ট করার চক্রান্ত চলছে।” স্কুলে প্রায় ২০০ জন ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করে, যাদের মধ্যে ১২৫ জন হিন্দু সম্প্রদায়ের। অভিভাবকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এই মাংস হয়তো মিড-ডে মিলের রান্নায় ব্যবহার করা হতো এবং শিশুদের খাওয়ানো হত।জেলা প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। স্কুলের ইন-চার্জ হেডমাস্টার আখতার আলি, শিক্ষক মোহাম্মদ ইমরান, আনোয়ার খান, সুফিয়া খাতুন ও হিনা কওসর এই পাঁচজনকে সাসপেন্ড করা হয়।
পুলিশ তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। দুইজন মহিলা শিক্ষককে পরে গ্রেফতারও করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধার করা মাংসের নমুনা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত এটিকে ‘সন্দেহজনক মাংস’ বলা হচ্ছে।স্থানীয় অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের সন্তানরা স্কুলে নিরাপদে পড়াশোনা করবে, খাবার খাবে এটাই তো স্বাভাবিক প্রত্যাশা।
কিন্তু যদি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হয়, তাহলে আমরা চুপ করে থাকব না।” অনেকে অভিযোগ করেন যে, স্কুলের রান্নাঘরে মাঝে মাঝে মাংস রান্না করা হতো এবং শিশুদের খাওয়ানো হতো। গ্রামবাসীরা দাবি করেছেন, এটি শুধু খাবারের ঘটনা নয়, ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে ছিনিমিনি খেলার চেষ্টা।রোহতাস জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে এবং ফরেনসিক রিপোর্ট অনুসারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মিড-ডে মিল প্রকল্পের তদারকিতে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এই ঘটনা বিহারের শিক্ষা ব্যবস্থা ও মিড-ডে মিল প্রকল্প নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
মিড-ডে মিল শিশুদের পুষ্টি ও উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য চালু করা হয়েছে। কিন্তু যদি এর মধ্যে ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে কোনো ছিনিমিনি চলে, তাহলে সেটি শুধু শিক্ষার পরিবেশ নয়, সামাজিক সম্প্রীতিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। স্থানীয় হিন্দু সংগঠনগুলো এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে এবং কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

