কলকাতা: বেঙ্গালুরুর নারায়ণা হাসপাতালের সামনে একটি বড় মসজিদ দেখে অনেকেই অবাক হন (Bangladesh temple)। এই মসজিদটি নাকি বাংলাদেশি রোগীদের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে, যাতে তাঁরা বড় সংখ্যায় নামাজ আদায় করতে পারেন। স্থানীয় বাংলাদেশি মুসলিম সম্প্রদায় এটিকে নিয়ে গর্ব করে কথা বলেন। কিন্তু একই সময়ে বাংলাদেশে হিন্দু মন্দির ভাঙচুর এবং রাম মন্দির নির্মাণের চেষ্টায় হিন্দুদের গ্রেফতারের খবর আসছে।
এই দুই ছবির বৈপরীত্য অনেককে ভাবিয়ে তুলছে।নারায়ণা হাসপাতাল বেঙ্গালুরুর একটি বিখ্যাত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান। এখানে দেশ-বিদেশ থেকে অনেক রোগী আসেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, ধর্মীয় সুবিধা দিয়ে রোগীদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করাই তাঁদের উদ্দেশ্য। বাংলাদেশ থেকে আসা অনেক মুসলিম রোগী এই মসজিদে নামাজ আদায় করেন।
আরও দেখুনঃ চিন-বাংলাদেশের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়ে মিজোরামে নতুন সামরিক ঘাঁটি তৈরী ভারতের
একইসঙ্গে প্রশ্ন ওঠে, অন্য দেশে সংখ্যালঘুদের প্রতি আচরণ কেমন?বাংলাদেশে সম্প্রতি কয়েকটি হিন্দু মন্দির ভাঙচুরের খবর এসেছে। গাইবান্ধায় রাম মূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হরিদাসকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হিন্দু সংগঠনগুলো বলছে, সেখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অধিকার ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। মন্দির ভাঙা, জমি দখল এবং হামলার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে নোয়াখালীতে একটি ৫০০ বছরের পুরোনো মন্দির ভেঙে ফেলা হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই বৈপরীত্য অনেককে ভাবিয়ে তুলেছে। ভারতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য ধর্মীয় স্থান তৈরির সুবিধা থাকলেও, প্রতিবেশী দেশে হিন্দুদের প্রতি আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ধর্মীয় সহাবস্থানের কথা বলা হলেও বাস্তবে দ্বৈত মানদণ্ড দেখা যাচ্ছে বলে সমালোচকরা মনে করেন।
আরও দেখুনঃ কৌশলগত অংশীদার না অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী! আমেরিকার কাছে নয়া চ্যালেঞ্জ মোদীর ভারত
বেঙ্গালুরুর এই মসজিদ নিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, হাসপাতালের উদ্যোগ প্রশংসনীয় কারণ রোগীদের ধর্মীয় অনুভূতি মর্যাদা পাচ্ছে। অন্যরা প্রশ্ন তুলছেন, একই সুবিধা অন্য ধর্মের রোগীদের জন্যও সমানভাবে দেওয়া হয় কি না। ভারতের সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে। সেই আদর্শ অনুসরণ করা উচিত বলে অনেকে মনে করেন।





