নয়াদিল্লি: নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নীতি ও কৌশল বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে। রবিবার সন্ধ্যায় দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা তাঁকে আটকে রাখে ভারতীয় অভিবাসন দফতর। পরে উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের হস্তক্ষেপে প্রবেশের ছাড়পত্র মিললেও, তিনি ভারতে না ঢুকে কলম্বো হয়ে ঢাকায় ফিরে যান। গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে বিএনপি (BNP) সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম দুই দেশের মধ্যে এমন কূটনৈতিক অস্বস্তির ঘটনা ঘটল।
কেন এই বিপত্তি?
ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (IORA) উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে ভারতে এসেছিলেন জাহেদ। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলির রিপোর্ট অনুযায়ী, গত শুক্রবারই ভারতের বিদেশ মন্ত্রককে তাঁর সফরের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছিল নয়া দিল্লির বাংলাদেশ হাই কমিশন। তা সত্ত্বেও বিমানবন্দরে তাঁকে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখা হয়। একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, যাচাইকরণের সময় জাহেদের নাম একটি ‘নিরাপত্তা সংক্রান্ত ওয়াচলিস্টে’ দেখা যায়। তাছাড়া তাঁর কাছে কূটনৈতিক পাসপোর্টের বদলে ‘সার্ক’ স্টিকার লাগানো সাধারণ সবুজ পাসপোর্ট ছিল।
কে এই জাহেদ উর রহমান?
পেশায় চিকিৎসক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। গত অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাচন সংস্কার কমিশনের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি।
কূটনৈতিক সমীকরণ
ইউনূস সরকারের আমলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে যে ফাটল ধরেছিল, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তা মেরামতের চেষ্টা চলছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তরফে তারেক রহমানকে ভারতে আসার আমন্ত্রণও জানানো হয়েছে। কিন্তু আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির কথা মাথায় রেখে তারেক রহমান প্রথম বিদেশ সফরের জন্য ভারত বা চিনের বদলে মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছেন বলে খবর। এর মধ্যেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কটের আবহে ভারত কিন্তু বাংলাদেশকে নিয়ম করে ডিজেল সরবরাহ করে সাহায্য করে চলেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বাংলাদেশ প্রশাসনে ভারত-বিরোধী ও ইসলামি শক্তির প্রভাব বৃদ্ধির কারণেই নয়াদিল্লি এবার কড়া অবস্থান নিচ্ছে। বিমানবন্দরে উপদেষ্টাকে আটকে রাখার ঘটনাটি সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। তবে শেষমেশ ছাড়পত্র দেওয়ায় স্পষ্ট যে সরকারি স্তরে সমস্যাটি মেটানো হয়েছিল। কিন্তু জাহেদের ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত আগামী দিনে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে কোনও প্রভাব ফেলে কি না, সেদিকেই কড়া নজর রাখছে কূটনৈতিক মহল।





