অযোধ্যা: অযোধ্যায় ঘটে গেল এক নাটকীয় ঘটনা। রাজ্যের জিএসটি বিভাগের ডেপুটি কমিশনার প্রশান্ত কুমার সিং প্রথমে পদত্যাগ করেছিলেন, কিন্তু আজ তিনি সেই পদত্যাগ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। আর এই ঘটনা নিয়েই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে সমালোচনা। প্রশান্ত সিং-এর এই সিদ্ধান্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, বিশেষ করে যখন তাঁর পদত্যাগের সময়ের একটা ভিডিওতে তাঁকে কাঁদতে দেখা গিয়েছে।
এই সব কিছুর সূত্রপাত জ্যোতিষপীঠের শঙ্করাচার্য স্বামী অবিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী-র বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে। স্বামী অবিমুক্তেশ্বরানন্দ উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ-এর বিরুদ্ধে কিছু কড়া কথা বলেছিলেন। শঙ্করাচার্যের অভিযোগ গুলির মধ্যে ছিল পুলিশের বাধা দেওয়া, সাম্প্রদায়িক বিভাজনের চেষ্টা, সংবিধানের অপমান। প্রশান্ত সিং এই মন্তব্যগুলোকে “অশোভন”, “দায়িত্বজ্ঞানহীন” এবং সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা বলে উল্লেখ করেছিলেন।
হিন্দুদের কাছে করজোড়ে ক্ষমা চেয়ে মমতার বিরুদ্ধে উস্কানির অভিযোগ হুমায়ুনের
তিনি বলেছিলেন যে দু’রাত ঘুম হয়নি, মন খুব আহত হয়েছে। তার ভাষায় “যার নমক খাই, তার অপমান সহ্য করতে পারছি না,” এই কথা বলে তিনি ২৮ জানুয়ারি রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগের কারণ হিসেবে তিনি সরকার, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এবং সংবিধানের প্রতি সমর্থন জানান। তিনি বলেন, এটা তাঁর নৈতিক দায়িত্ব। সরকার যে বেতন দেয়, তার প্রতি আনুগত্য।
পদত্যাগের পর তাঁর একটা ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে তিনি ফোনে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে বলতে কাঁদছেন। এই ভিডিও দেখে অনেকে প্রশংসা করেন, কেউ কেউ বলেন এটা রাজনৈতিক চাপ বা নাটক। কিন্তু আজ খবর এসেছে যে প্রশান্ত সিং তাঁর পদত্যাগ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তিনি নিজের ইচ্ছায় ইস্তফা প্রত্যাহার করেছেন কোনও চাপ নেই। তিনি আবার কাজে যোগ দিয়েছেন।
এই ঘটনা শঙ্করাচার্য বিতর্কের মধ্যে ঘটেছে। অন্যদিকে, একজন ব্যুরোক্র্যাটের এমন আবেগপূর্ণ পদত্যাগ এবং তারপর প্রত্যাহার রাজ্যের প্রশাসনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। কেউ বলছেন এটা যোগী সরকারের প্রতি আনুগত্যের উদাহরণ, কেউ বলছেন রাজনৈতিক চাপ বা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। প্রশান্ত সিং-এর এই ইউটার্ন দেখে অনেকে মনে করছেন যে পরিবার, দায়িত্ব এবং বাস্তবতা তাঁকে ফিরিয়ে এনেছে।



