নয়াদিল্লি: দেশের অন্যতম বড় কর্পোরেট তদন্তে নতুন মোড়। (Anil Ambani)ইডি অনিল আম্বানি-সম্পর্কিত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল SIT গঠন করেছে। একইসঙ্গে সিবিআই একাধিক মামলায় তদন্ত জোরদার করেছে। বিষয়টি নিয়ে শুনানির সময় আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে এই তদন্ত নিরপেক্ষ, নির্দলীয় এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শেষ করতে হবে।
শুনানির সময় সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান, ইডি বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থার অফিসারদের নিয়ে একটি শক্তিশালী SIT গঠন করেছে। এই দলে ডেপুটি ডিরেক্টর ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর স্তরের আধিকারিকদের পাশাপাশি ফরেনসিক অডিটরও রয়েছেন, যারা আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখছেন। এর পাশাপাশি সিবিআই-ও ট্রানজ্যাকশন অডিটর নিয়োগ করেছে এবং তদন্ত চলাকালীন ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আরও দেখুনঃ ভোটের আগে টানা প্রচারে ব্যস্ত তৃণমূল নেত্রী, ৩১ মার্চ পর্যন্ত সূচি প্রকাশ
আদালতে জমা দেওয়া স্ট্যাটাস রিপোর্টে উঠে এসেছে, একাধিক মামলা বর্তমানে তদন্তাধীন। বিশেষ করে সরকারি আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, যা এই তদন্তকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও তথ্য চাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে, যাতে পুরো লেনদেনের চিত্র স্পষ্ট হয়।
তবে এই তদন্তের গতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পিআইএল মামলার পক্ষের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ। তাঁর দাবি সেবির রিপোর্টে অনিল আম্বানি ও তাঁর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও তহবিল আত্মসাতের অভিযোগ উঠে এলেও, সেই অনুযায়ী সিবিআই-এর তরফে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বিশেষ করে গ্রেফতারের ক্ষেত্রে গাফিলতির অভিযোগ তোলেন তিনি। এর জবাবে সলিসিটর জেনারেল জানান, এখনও পর্যন্ত অন্তত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তদন্ত এগোচ্ছে। তিনি আদালতকে আশ্বাস দেন, সত্য উদ্ঘাটনে কোনও খামতি রাখা হবে না।
এই প্রেক্ষিতে আদালত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছে। বিচারপতিরা জানিয়েছেন, যেখানে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে যোগসাজশের সম্ভাবনার অভিযোগ রয়েছে, সেখানে সব তদন্তকারী সংস্থাকে “একসঙ্গে কাজ করতে” হবে। একইসঙ্গে, তদন্ত যেন নিরপেক্ষভাবে হয় এবং কোনও প্রভাবমুক্ত থাকে, সেই বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে।
আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সমস্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ইডির তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। কারণ এই মামলায় বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যা দেশের আর্থিক ব্যবস্থার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই মামলার পরবর্তী শুনানি চার সপ্তাহ পর ধার্য করা হয়েছে। ততদিনে তদন্তে কী অগ্রগতি হয়, সেদিকেই নজর থাকবে সবার।



