ইঞ্জিনের দাম বাড়াল আমেরিকা! ভারতের AMCA প্রোগ্রামে বাধা

নয়াদিল্লি: ভারতের স্বাধীন প্রতিরক্ষা উন্নয়নের (F414 engine)অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট (এএমসিএ) প্রোগ্রামে বড় বাধা দেখা দিয়েছে। আমেরিকার জেনারেল ইলেকট্রিক (জিই) কোম্পানির সঙ্গে…

amca-f414-engine-price-hike

নয়াদিল্লি: ভারতের স্বাধীন প্রতিরক্ষা উন্নয়নের (F414 engine)অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট (এএমসিএ) প্রোগ্রামে বড় বাধা দেখা দিয়েছে। আমেরিকার জেনারেল ইলেকট্রিক (জিই) কোম্পানির সঙ্গে এফ-৪১৪ জেট ইঞ্জিন সরবরাহ নিয়ে চলা আলোচনা গুরুতর সংকটে পড়েছে। ইঞ্জিনের দাম প্রাথমিক উদ্ধৃতির তুলনায় তিনগুণ বেড়ে যাওয়ায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ উদ্বিগ্ন।

প্রথম পাঁচটি উড়ন্ত প্রোটোটাইপের জন্য ১৫টি ইঞ্জিন প্রয়োজন, যার খরচ এখন অনেক বেশি।এএমসিএ ভারতের পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ ফাইটার প্রোগ্রাম। এটি ডিআরডিও ও এইচএএল-এর যৌথ উদ্যোগ। বিমানটি অভ্যন্তরীণভাবে ১,৫০০ কেজি এবং বাহ্যিকভাবে ৫,৫০০ কেজি ওজন বহন করতে সক্ষম হবে। আধুনিক স্টেলথ প্রযুক্তি, অত্যাধুনিক রাডার এবং অস্ত্র ব্যবস্থা নিয়ে এটি ভারতীয় বিমানবাহিনীর শক্তি বাড়াবে বলে আশা করা হয়েছিল।

   

আরও দেখুনঃ পাকিস্তানকে জল দেওয়ার আর্জিতে জহর সরকার! তদন্ত দাবি তথাগতর

কিন্তু ইঞ্জিনের সমস্যা পুরো প্রকল্পকে বাধাগ্রস্ত করছে।জিই কোম্পানি জানে যে, এফ-৪১৪ ইঞ্জিনের বিকল্প ভারতের কাছে খুব সীমিত। ফলে দাম বাড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ তারা নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এখন বিকল্প খুঁজছে। দেশীয় ইঞ্জিন উন্নয়নের চেষ্টা চলছে, কিন্তু তা এখনো পর্যাপ্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ফলে আমেরিকান ইঞ্জিনের ওপর নির্ভরতা কমানো কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, “ইঞ্জিনের খরচ তিনগুণ বেড়ে যাওয়ায় বাজেট অনেক চাপে পড়েছে।

আমরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়া জটিল।”এএমসিএ প্রকল্প ভারতের ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের প্রতীক। এটি সফল হলে চিন ও পাকিস্তানের আধুনিক যুদ্ধবিমানের মোকাবিলায় ভারত শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে। কিন্তু ইঞ্জিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশে বিদেশি নির্ভরতা প্রকল্পের গতি কমিয়ে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইঞ্জিন প্রযুক্তি হলো যুদ্ধবিমানের ‘হৃদয়’। এটি ছাড়া বিমান উড়বে কীভাবে? দেশীয় উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া ছাড়া এই সমস্যা থেকে বেরোনো কঠিন।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করেন, জিই-র এই অবস্থান ভারতের জন্য চ্যালেঞ্জ। আমেরিকা সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক ভালো থাকলেও বাণিজ্যিক আলোচনায় তারা কঠিন। ভারতকে হয় দাম মেনে নিতে হবে, নয়তো বিকল্প খুঁজতে হবে। রাশিয়া, ফ্রান্স বা অন্য দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে, কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

এদিকে ডিআরডিও জানিয়েছে, দেশীয় ইঞ্জিন উন্নয়নের কাজ জোরদার করা হয়েছে। কিন্তু এতে সময় লাগবে। এএমসিএ-র প্রথম উড়ানের সময়সীমা ইতিমধ্যে পিছিয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অব.) অজয় শুক্লা বলেন, “এই ধরনের প্রকল্পে ইঞ্জিনের সমস্যা সাধারণ। কিন্তু খরচ তিনগুণ বাড়লে বাজেট পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”