অমৃতসর: ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে বড়সড় অস্ত্র পাচারচক্রের পর্দাফাঁস (Border Security) করল নিরাপত্তা বাহিনী। বিএসএফ এবং পাঞ্জাব পুলিশের যৌথ অভিযানে অমৃতসরের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি AK-47 রাইফেল, ২৫টি অত্যাধুনিক পিস্তল, বিপুল পরিমাণ গুলি ও ম্যাগাজিন।
পাঞ্জাব পুলিশের ডিজিপি গৌরব যাদব জানান, ধৃত ব্যক্তির নাম রোহন খোসলা, তিনি অমৃতসরের রূপনগর কলোনির বাসিন্দা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী এক সহযোগীর নির্দেশে তিনি অস্ত্রের চালান সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপের মাধ্যমে অস্ত্র ফেলার স্থান সংক্রান্ত তথ্য তাঁর কাছে পৌঁছেছিল বলে তদন্তকারীদের ধারণা।
বিএসএফ পাঞ্জাব এবং স্টেট স্পেশাল অপারেশনস সেল (SSOC)-এর যৌথ অভিযানে ভারত-পাক আন্তর্জাতিক সীমান্তের শাহপুর বর্ডার আউটপোস্ট এলাকার কাছে তাঁকে আটক করা হয়। সে সময় তিনি একটি হুন্ডাই i20 গাড়িতে ছিলেন।
তল্লাশি চালিয়ে গাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় একটি AK-47 রাইফেল, ১৪টি ৯ মিমি পিস্তল এবং ১১টি .৩০ বোর পিস্তল। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলির মধ্যে নরিনকো স্টার, গ্লক, জিগানা, টরাস ও ওয়ালথার সংস্থার তৈরি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। এছাড়াও উদ্ধার হয়েছে ৩৬৮ রাউন্ড জীবন্ত কার্তুজ, ৪৮টি ম্যাগাজিন এবং মার্কিন নির্মিত একটি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট।
তদন্তকারীদের মতে, সীমান্ত পেরিয়ে ড্রোনের মাধ্যমে এই অস্ত্রের চালান ভারতে পাঠানো হয়েছিল। রোহন খোসলার কাজ ছিল ওই অস্ত্র সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
অতিরিক্ত আইজি (SSOC) সুখমিন্দর সিং মান জানান, ধৃত ব্যক্তি একটি বড় আন্তঃসীমান্ত অস্ত্র পাচার চক্রের স্থানীয় যোগাযোগ রক্ষাকারী হিসেবে কাজ করছিল। এই চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত এবং অস্ত্রগুলি কোথায় পৌঁছানোর কথা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনায় অস্ত্র আইন, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং বিমান চলাচল সংক্রান্ত আইনের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পাঞ্জাব পুলিশের ডিজিপি গৌরব যাদব এই অভিযানের প্রশংসা করে বলেন, “সীমান্ত পারাপার অস্ত্র পাচার এবং সম্ভাব্য জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে এটি একটি বড় সাফল্য। গোটা চক্রের শিকড় খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে।”
নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মতে, সীমান্ত দিয়ে ড্রোনের মাধ্যমে অস্ত্র ও মাদক পাচারের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এই উদ্ধার সেই চক্রের বিরুদ্ধে বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে।



