খুন, যৌন হেনস্থা থেকে অস্ত্র আইন: দিল্লির প্রতিবাদে এআই নজরে ২৯০০ দাগী আসামি

নয়াদিল্লি: সংসদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘কোকরোজ জনতা পার্টি’ (CJP)-র নেতৃত্বাধীন ছাত্র আন্দোলনে বড়সড় নিরাপত্তার ফাঁকফোকর ও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। সিএনএন-নিউজ১৮-এর হাতে…

নয়াদিল্লি: সংসদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘কোকরোজ জনতা পার্টি’ (CJP)-র নেতৃত্বাধীন ছাত্র আন্দোলনে বড়সড় নিরাপত্তার ফাঁকফোকর ও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। সিএনএন-নিউজ১৮-এর হাতে আসা তথ্যানুযায়ী, ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম এবং অপরাধের ডেটাবেস মিলিয়ে নজরদারি চালাতে গিয়ে দিল্লি পুলিশ ওই সমাবেশে ক্রিমিনাল রেকর্ড রয়েছে এমন প্রায় ২,৯০০ জন ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছে। শিক্ষার্থীদের একটি শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলন হিসেবে যা পরিচিত ছিল, সেখানে সুসংগঠিত ও দুর্ধর্ষ অপরাধীদের এই ধরনের অনুপ্রবেশ ভাবিয়ে তুলেছে নিরাপত্তা সংস্থাকে।

প্রযুক্তির সাহায্যে শনাক্তকরণ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লি পুলিশ উন্নত নজরদারি প্রযুক্তির সাহায্য নিয়েছিল। এর মধ্যে ছিল ফেসিয়াল রেকগনিশন সিস্টেম (FRS) ভ্যান, ক্রাইম-কুণ্ডলী ডেটাবেস ম্যাচিং এবং বিদ্যমান ডসিয়ার রেকর্ড ভেরিফিকেশন। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্রাইম-কুণ্ডলী রেকর্ডে ২,৪০২টি এবং ডসিয়ার ভেরিফিকেশনে ৪৭১টি মিল পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে অপরাধমূলক ইতিহাস রয়েছে এমন ২,৮৭৩ জন অংশগ্রহণকারীকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, এই ব্যক্তিরা কেবল একটি নির্দিষ্ট এলাকার নন, বরং আউটার দিল্লি, উত্তর-পশ্চিম, উত্তর-পূর্ব, পূর্ব, দক্ষিণ-পশ্চিম এবং রেলওয়ে জেলা সহ রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ওই সমাবেশে জড়ো হয়েছিলেন।

Advertisements

খুন, ডেমোসিটি ও যৌন হেনস্থাকারীদের উপস্থিতি

চিহ্নিত হওয়া ২,৮৭৩ জনের মধ্যে ৯৮৯ জনের বিরুদ্ধে গুরুতর এবং জঘন্য অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১০১ জন খুনের মামলার আসামি এবং ৬২ জন খুনের চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত। ২৮৪ জন ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে এবং ১৩৫ জন ছিনতাইয়ে অভিযুক্ত।

তদন্তকারীদের সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত করেছে নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধে যুক্তদের উপস্থিতি। এর মধ্যে ৬১ জন ধর্ষণ মামলার আসামি, ২৫ জন শ্লীলতাহানির অভিযোগে এবং ৬ জন পকসো (POCSO) আইনে অভিযুক্ত সহ মোট ৯২ জন অপরাধীকে শনাক্ত করা হয়েছে। ২২৯ জনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন (Arms Act) এবং ৬৭ জনের বিরুদ্ধে এনডিপিএস (NDPS) আইনে মামলা রয়েছে।

একাধিক অপরাধে যুক্ত দুষ্কৃতীরা

পুলিশের প্রতিবেদনে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের কারণ হয়েছে, তা হলো এদের মধ্যে বহু দুষ্কৃতী একাধিক অপরাধে সিদ্ধহস্ত। উদাহরণস্বরূপ, চিহ্নিত হওয়া ৪২ জন খুন অভিযুক্তের দুটির বেশি মামলা রয়েছে এবং ১২ জনের নামে রয়েছে অন্তত ১০টি করে মামলা। এছাড়া ১৫৫ জন ডাকাতি ও অস্ত্র মামলার আসামি বারবার অপরাধের সঙ্গে যুক্ত, যার মধ্যে ৩১ জনের বিরুদ্ধে ১০টিরও বেশি মামলা রেকর্ড করা আছে।

দিল্লি পুলিশের মতে, এই ধরনের অভিজ্ঞ অপরাধীরা প্রায়ই বড় জনসমাগমকে তাদের অপরাধ ঢাকবার আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে। অস্ত্র এবং মাদক মামলার আসামিরা উপস্থিত থাকায় পরিস্থিতি যে কোনো মুহূর্তে মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারত বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের আড়ালে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে এই অপরাধীরা, এমনটাই মনে করছে প্রশাসন।

NEET আন্দোলনে আটক-গ্রেফতার ছাত্রদের অবিলম্বে মুক্তি দেবে বিহার প্রশাসন

মিথ্যে মামলায় জড়াচ্ছে মোদী সরকার! এবার কপিলের দ্বারস্থ আরশোলারা