নয়াদিল্লি: ভারতীয় সেনাবাহিনীর অগ্নিপথ প্রকল্পে নিয়োগপ্রাপ্ত (Agniveer)তরুণ যোদ্ধাদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের কাছে চিঠি লিখে অনুরোধ করেছেন, ২০২৭ সালে চার বছরের মেয়াদ শেষ করার পর অগ্নিবীরদের জন্য রাজ্য সরকারি চাকরিতে অন্তত ২০ শতাংশ সংরক্ষণ রাখা হোক। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো দেশের সেবা করা এই যুবকদের পুনর্বাসন সহজ করে তোলা এবং তাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে জাতীয় উন্নয়নে কাজে লাগানো।
অগ্নিপথ প্রকল্প চালু হওয়ার পর থেকেই এই নিয়োগ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। চার বছরের স্বল্পমেয়াদি চুক্তিতে সেনায় যোগ দেওয়া তরুণরা কঠোর প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যান। তারা শুধু শারীরিকভাবে সুস্থ ও যুদ্ধকুশল হয়ে ওঠেন না, বরং শৃঙ্খলা, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, নেতৃত্বের গুণ এবং দেশপ্রেমের মতো মূল্যবোধও অর্জন করেন। কিন্তু চার বছর পর অধিকাংশ অগ্নিবীরকেই সেনা থেকে বিদায় নিতে হয়।
আরও দেখুনঃ মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কটের মাঝেই স্বস্তি! একধাক্কায় পেট্রোল-ডিজেলে ১০ টাকা শুল্ক কমাল সরকার
এমন পরিস্থিতিতে তাদের বেসামরিক জীবনে স্থিতিশীলতা দেওয়ার জন্য কেন্দ্র এই প্রস্তাব এনেছে।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রথম ব্যাচের অগ্নিবীররা ২০২৭ সালে তাদের মেয়াদ শেষ করবেন। তার আগেই রাজ্যগুলোকে প্রস্তুতি নিতে হবে। চিঠিতে অমিত শাহ উল্লেখ করেছেন যে, অগ্নিবীররা যে কোনো সরকারি বিভাগে পুলিশ, বনরক্ষী, খনি প্রহরী, ফায়ার সার্ভিস, জেল কর্মীসহ গ্রুপ সি ও ডি পদে এই সংরক্ষণ পাবেন। হরিয়ানা ইতিমধ্যে এই পথে এগিয়েছে।
সেখানে অগ্নিবীরদের জন্য পুলিশ ও অন্যান্য ইউনিফর্মড সার্ভিসে সংরক্ষণ চালু করা হয়েছে। অন্য রাজ্যগুলোও এই উদাহরণ অনুসরণ করলে অগ্নিবীরদের কর্মসংস্থান অনেক সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেক প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তা ও সামরিক বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, অগ্নিবীররা চার বছর সেনায় কাটিয়ে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন, তা সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের থেকে অনেক বেশি মূল্যবান।
তাঁরা ইতিমধ্যে দেশের সীমান্ত রক্ষায় অবদান রেখেছেন। এখন রাজ্য সরকারগুলো যদি তাঁদের সুযোগ দেয়, তাহলে সমাজে একটি শক্তিশালী, দায়িত্বশীল ও সুসংগঠিত যুবশক্তি গড়ে উঠবে। একজন প্রাক্তন সেনা অফিসার বলেন, “অগ্নিবীররা শুধু যোদ্ধা নয়, তারা জাতির সম্পদ। তাদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।”



















