গুজরাটের আইকনিক স্ট্যাচু অফ ইউনিটির স্রষ্টা রাম সুতার প্রয়াত

প্রখ্যাত ভারতীয় ভাস্কর রাম ভানজি সুতার (Ram Sutar) প্রয়াত। বুধবার রাতে নয়ডার বাসভবনে তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত হন। তাঁর বয়স হয়েছিল ১০০ বছর। পুরো শিল্পজগৎ আজ…

Acclaimed Artist Ram Sutar, Creator of India’s Tallest Statue, Dies

প্রখ্যাত ভারতীয় ভাস্কর রাম ভানজি সুতার (Ram Sutar) প্রয়াত। বুধবার রাতে নয়ডার বাসভবনে তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত হন। তাঁর বয়স হয়েছিল ১০০ বছর। পুরো শিল্পজগৎ আজ শোকাহত তাঁর প্রয়াণে। তিনি ছিলেন এমন একজন ভাস্কর, যিনি ভারতের প্রতীকী স্থাপত্য ও মূর্তিকলার জগতে অমর হয়ে থাকবেন। তাঁর কল্পনা, দক্ষতা এবং সৃষ্টিশীলতা দেশের সঙ্গে বিশ্বের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

Advertisements

রাম সুতারের নামের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে গুজরাটের বল্লভভাই প্যাটেলের ‘স্ট্যাচু অফ ইউনিটি’। বিশ্বের সর্বোচ্চ এই মূর্তির স্রষ্টা তিনিই। শুধু ভারতের নয়, বিদেশের শিল্পপ্রেমী ও পর্যটকরাও তাঁর এই মহাকাব্যিক সৃষ্টিকে বিশেষভাবে মনে রাখবেন। বল্লভভাই প্যাটেলের মূর্তি তৈরি করে তিনি জাতীয় এক প্রতীক স্থাপন করেছিলেন, যা শুধুমাত্র ঐতিহাসিক তা নয়, বরং একটি শিল্পকর্ম হিসেবেও বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত।

   

তবে তাঁর কৃতিত্ব শুধু ‘স্ট্যাচু অফ ইউনিটি’ এ সীমাবদ্ধ নয়। অনেক আগে থেকেই রাম সুতার দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য ও মূর্তিকলার অংশ হয়ে আসেন। সর্বভারতীয় সংসদ ভবনের বাইরে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তির ডিজাইনও তাঁরই সৃষ্টি। এই মূর্তিতে তিনি যে বিশাল শিল্পদক্ষতার ছাপ রেখেছিলেন, তা শুধুমাত্র শিল্পকলা নয়, বরং দেশের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকেও ফুটিয়ে তুলেছে।

এছাড়াও, পার্লামেন্টের বাইরে ঘোড়ায় চড়া ছত্রপতি শিবাজীর মূর্তিও তাঁরই সৃষ্টিকর্ম। এই মূর্তিতে রাম সুতারের নকশা এবং শিল্পসৃজনার অনন্য দৃষ্টি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। ইতিহাসের মহান নেতাদের এই শিল্পীকে বিভিন্ন চরিত্রে জীবন্ত করে তোলার ক্ষমতা ছিল অসাধারণ। তাঁর মূর্তিগুলো শুধু দর্শনীয় নয়, বরং শক্তিশালী ঐতিহাসিক বার্তা বহন করে। রাম সুতারের জীবন প্রতিটি শিল্পী এবং ভাস্করদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। শিল্পকলার প্রতি তাঁর নিষ্ঠা, নিখুঁত কাজের প্রতি একাগ্রতা এবং ভাস্কর্যের প্রতি উদ্দীপনা সত্যিই অভূতপূর্ব। দেশের এবং আন্তর্জাতিক মানের শিল্প জগতে তিনি যে মর্যাদা অর্জন করেছিলেন, তা সহজে কেউ পাবেন না।

তিনি কেবল একটি যুগের শিল্পী ছিলেন না, তিনি ছিলেন শিল্পের ধারাকে নতুন দিশা দেখানো এক কিংবদন্তি। তার সৃষ্টি শুধুমাত্র স্থায়ী নয়, তা ভবিষ্যত প্রজন্মকে প্রেরণা জোগাবে। তাঁর মূর্তিগুলোতে কেবল প্রতিমূর্তি নয়, সেই সাথে ইতিহাস, শক্তি, সাহস ও দেশপ্রেমও ফুটে উঠেছে।

নয়ডার বাসভবনে তাঁর মৃত্যুতে শিল্প-সাহিত্য ও ভাস্কর্য জগতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং শিল্পপ্রেমীরা সামাজিক মাধ্যমে তাঁর প্রয়াণের খবরে শোক প্রকাশ করেছেন। দেশের ইতিহাসে এবং শিল্পের জগতে রাম সুতারের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

 

Advertisements