
স্বNews Desk, New Delhi: ক্ষমতায় এসে অনেক ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’ (Betti Bachao Betti Padao) প্রকল্প চালু করেছিলেন। বিরোধীরা অভিযোগ করেছিলেন এই প্রকল্প চালু করতে গিয়ে যত প্রচার করা হয়েছে আদতে কাজ হয়েছে তার নামমাত্র। অনেকেই এটাকে নিন্দুকের অপপ্রচার বলেছিলেন। কিন্তু বিরোধীদের অভিযোগ যে এতটুকু ভুল নয় তার প্রমাণ মিলল মোদী সরকারের পেশ করা রিপোর্টেই। কেন্দ্রীয় নারী কল্যাণ বিষয়ক সংসদীয় কমিটি ওই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।
ওই সংসদীয় কমিটির রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও প্রকল্পে প্রথম তিন বছরে যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল তার ৮০ শতাংশই খরচ হয়েছে বিজ্ঞাপনী প্রচারে। অর্থাৎ বিজ্ঞাপনের প্রচারের খরচ মেটানোর পর বাকি ২০ শতাংশ টাকা যাদের জন্য ওই প্রকল্প তাদের পিছনে খরচ করা হয়েছে। যে সংসদীয় বিষয়ক কমিটি ওই রিপোর্টে দিয়েছে তার মাথাতে আছেন বিজেপি সাংসদ হিনা গাভিট।
ওই কমিটির রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও প্রকল্প ৪৪৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা বরাদ্দ করেছিল মোদী সরকার। বরাদ্দকৃত টাকার ৭৮.৯১ শতাংশ টাকা ব্যয় করা হয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিতে। প্রথম দফায় ক্ষমতায় আসার পর ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে অত্যন্ত ফলাও করে এই প্রকল্পটির ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। নরেন্দ্র মোদীর ওই স্বপ্নের প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল, দেশে লিঙ্গ বৈষম্য দূর করা এবং কন্যা ভ্রুণ হত্যার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তোলা। কিন্তু সংসদীয় কমিটির ওই রিপোর্টের পর সেই কাজ কতটা হয়েছে তা নিয়েই প্রশ্ন উঠে গেল। কারণ ওই কাজের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের পাঁচ ভাগের চার ভাগে চলে গিয়েছে শুধু বিজ্ঞাপনী খরচ মেটাতে।
সংসদীয় কমিটির রিপোর্ট বলছে, শুরুর পর থেকে প্রতি বছরই বিজ্ঞাপনী খরচ বেড়েছে। তুলনায় কমেছে মূল কাজের খরচ। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে সামান্য পরিমাণ অর্থ দিয়ে কিভাবে এই প্রকল্পের কাজ এগিয়ে যেতে পারে? তবে সেই প্রশ্নের কোনও উত্তর মেলেনি মোদী সরকারের কাছে। বিরোধীরা বরাবর অভিযোগ করেছেন, মোদী যত না কাজ করেন তার চেয়ে প্রচার করেন অনেক বেশি। তাঁর প্রচারের ঘনঘটা যে কোন মানুষকে তাক লাগিয়ে দিতে পারে। এটা যে নিতান্তই বিরোধীদের অপপ্রচারে ছিল না সরকার নিজেই সে কথা স্বীকার করে নিল।










