শক্তি বৃদ্ধি বায়ুসেনার! ৬০০টি ১০০০ কেজি ওজনের ‘সুপার বাঙ্কার বাস্টার বোমা’ তৈরি করছে ভারত

নয়াদিল্লি, ৮ মার্চ: প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ভারতীয় বিমান বাহিনীর (আইএএফ) যুদ্ধক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি বড় পরিকল্পনা করেছে (Bunker Bomb)। ‘আত্মনির্ভর ভারত’ অভিযানের অংশ হিসেবে, বায়ুসেনাকে এখন দেশীয় ...

By Kolkata24x7 Team

Published:

Follow Us
Bunker Bomb

নয়াদিল্লি, ৮ মার্চ: প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ভারতীয় বিমান বাহিনীর (আইএএফ) যুদ্ধক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি বড় পরিকল্পনা করেছে (Bunker Bomb)। ‘আত্মনির্ভর ভারত’ অভিযানের অংশ হিসেবে, বায়ুসেনাকে এখন দেশীয় ১,০০০ কিলোগ্রামের এরিয়াল বোমা দিয়ে সজ্জিত করা হবে। মন্ত্রক এর জন্য আগ্রহপত্র (EoI) জারি করেছে, যা ভারতের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিতে একটি মাইলফলক হিসেবে প্রমাণিত হবে।

এই দেশীয় বোমাটি ধ্বংসাত্মক শক্তিতে আমেরিকার বিখ্যাত এমকে-৮৪ বোমার সমতুল্য হবে। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটিকে রাশিয়ার সুখোই-৩০ এমকেআই এবং ফ্রান্সের রাফায়েল বা মিরাজ যুদ্ধবিমান—উভয়টিতেই সহজে স্থাপনযোগ্য করে ডিজাইন করা হচ্ছে।

   
  • প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা দুটি পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হবে।
  • প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনাটিকে দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করেছে:

নকশা ও উন্নয়ন (প্রথম পর্যায়): ছয়টি প্রোটোটাইপ (আসল ও ডামি) তৈরি করা হবে। বোমাটির লেজের অংশ এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম ভারতের পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হবে। ব্যাপক উৎপাদন (দ্বিতীয় পর্যায়): সফল পরীক্ষার পর, মোট ৬০০টি বোমা ক্রয়ের জন্য কোম্পানিগুলোকে টেন্ডার (আরএফপি) জারি করা হবে।

এই দেশীয় সুপার বাঙ্কার বাস্টার বোমাগুলো কেন বিশেষ?
এই বোমাগুলো শত্রুর মনে ভয় জাগানোর জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী। এদের অনন্য বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে এদের দ্বারা উৎপন্ন বিপুল বিস্ফোরক শক্তি। এর ফলে সৃষ্ট চাপ বাঙ্কার এবং সুরক্ষিত অবস্থান ধ্বংস করতে সক্ষম হবে। এগুলো শত্রুর বিমানঘাঁটি, সামরিক সদর দপ্তর এবং কংক্রিটের বাঙ্কার সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করতে ব্যবহৃত হবে।

ডিএপি ২০২০-এর মেক-২ বিভাগের অধীনে, এই প্রকল্পে কমপক্ষে ৫০% দেশীয় উপাদান থাকা বাধ্যতামূলক। ভারতীয় স্টার্টআপ এবং এমএসএমই-দের জন্য প্রতিরক্ষা খাতে প্রবেশের এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ।

আত্মনির্ভরশীলতার পথে পদক্ষেপ
বর্তমানে, ভারত এই শ্রেণীর ভারী বোমার জন্য বিদেশি বাজারের উপর নির্ভরশীল। এই প্রকল্পের সফল সমাপ্তি কেবল বৈদেশিক মুদ্রাই সাশ্রয় করবে না, বরং যুদ্ধের ক্ষেত্রে ভারতকে অন্য দেশের উপর নির্ভর করা থেকেও বিরত রাখবে।

সূত্রমতে, নকশা থেকে শুরু করে চূড়ান্ত চুক্তি পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটিতে প্রায় আড়াই বছর সময় লাগবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপটি শুধু ভারতীয় বিমানবাহিনীকে আগের চেয়ে আরও শক্তিশালীই করবে না, বরং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের অধীনে একটি বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা কেন্দ্র হয়ে ওঠার পথে ভারতের অগ্রগতিকেও ত্বরান্বিত করবে।

Kolkata24x7 Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি kolkata24x7 Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।

Follow on Google