নয়াদিল্লি: ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হচ্ছে। রাশিয়া থেকে চতুর্থ এস-৪০০ বিমান প্রতিরক্ষা (India S-400)ব্যবস্থা ভারতে আসার পথে। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে এটি ভারতের কোনো বন্দরে পৌঁছে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পঞ্চম সিস্টেমটি চলতি বছরের নভেম্বর মাসে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে। মোদী সরকার ইতিমধ্যে আরও পাঁচটি এস-৪০০ সিস্টেম কেনার অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে ভারতের মোট এস-৪০০ রেজিমেন্টের সংখ্যা দাঁড়াবে দশটিতে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত ভারতের দীর্ঘমেয়াদি আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষমতাকে অনেকখানি বাড়িয়ে তুলবে।চতুর্থ এস-৪০০ সিস্টেমটি সম্ভবত ভারত-পাক সীমান্তে রাখা হবে। এই অঞ্চল পাকিস্তানের দিক থেকে আসা সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলার বিরুদ্ধে শক্তিশালী ঢাল হিসেবে কাজ করবে। বর্তমানে ভারতের তিনটি এস-৪০০ স্কোয়াড্রন সক্রিয় রয়েছে। তিনটিই ভারতের সংবেদনশীল এলাকায় মোতায়েন আছে।
আরও দেখুনঃ নজরে মমতার গড়! ভবানীপুরে শুরু কেন্দ্রীয় বাহিনীর মার্চ
নতুন সিস্টেমগুলো এই কভারেজকে আরও ঘন ও কার্যকর করবে।ভারত সরকার ২৮০টি ছোট ও দূরপাল্লার এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্রও কিনতে যাচ্ছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম। বিমান, ড্রোন, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সব ধরনের হুমকির বিরুদ্ধে এস-৪০০ অত্যন্ত কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। গত বছরের অপারেশন সিঁদুরের সময় এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল বলে জানা গেছে।
রাশিয়ার সঙ্গে ২০১৮ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তির অধীনে মোট পাঁচটি এস-৪০০ স্কোয়াড্রন কেনার কথা ছিল। প্রথম তিনটি ইতিমধ্যে ভারতে পৌঁছে গেছে এবং সক্রিয়ভাবে মোতায়েন করা হয়েছে। চতুর্থটির ডেলিভারি কিছুটা বিলম্বিত হলেও এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। রাশিয়ায় ভারতীয় বিমানবাহিনীর টিম প্রি-ডেলিভারি ইন্সপেকশন সম্পন্ন করেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে, চতুর্থ সিস্টেমটি মে মাসের মাঝামাঝি ভারতে পৌঁছালে দ্রুত ইন্ডাকশন প্রক্রিয়া শুরু হবে।
পঞ্চম এবং শেষ সিস্টেমটি নভেম্বরে আসবে। এরপর নতুন অনুমোদিত পাঁচটি সিস্টেমের জন্য আলোচনা ও চুক্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।এস-৪০০ ত্রিউম্ফ ব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম হিসেবে পরিচিত। এটি একসঙ্গে একাধিক লক্ষ্যবস্তুকে ট্র্যাক ও ধ্বংস করতে পারে। ভারতের জন্য এই ব্যবস্থা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ দেশের উত্তর ও পশ্চিম সীমান্তে দু’টি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে উত্তেজনা রয়েছে। রাজস্থান সেক্টরে নতুন রেজিমেন্ট মোতায়েন হলে পাকিস্তানের যেকোনো আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।




















