নয়াদিল্লি: ভারত নতুন করে নিউক্লিয়ার শক্তির যুগে প্রবেশ করল। কল্পক্কমের প্রোটোটাইপ ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর (India PFBR) সফলভাবে ক্রিটিক্যালিটি অর্জন করেছে। এই মুহূর্তটি শুধু একটি বৈজ্ঞানিক সাফল্য নয়, বরং দেশের দীর্ঘদিনের স্বপ্নের বাস্তবায়ন। এটি প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও জাতীয় উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
তামিলনাড়ুর কল্পক্কমে ইন্দিরা গান্ধী সেন্টার ফর অ্যাটমিক রিসার্চ ক্যাম্পাসে অবস্থিত এই ৫০০ মেগাওয়াটের রিঅ্যাক্টরটি ভারতীয় ন্যাবিকীয় বিদ্যুৎ নিগম লিমিটেড (ভাভিনি) দ্বারা পরিচালিত। সোডিয়াম-কুলড ফাস্ট ব্রিডার প্রযুক্তিতে তৈরি এই রিঅ্যাক্টর বিশেষ কারণ এটি নিজে যতটা জ্বালানি খরচ করে, তার চেয়ে বেশি জ্বালানি উৎপাদন করতে সক্ষম। এর মাধ্যমে ভারত তার তিন-স্তরের নিউক্লিয়ার কর্মসূচির দ্বিতীয় স্তরে সফলভাবে পা রাখল।
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী এই অর্জনকে দেশের নিউক্লিয়ার যাত্রায় এক ‘ডিফাইনিং স্টেপ’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর এক্স (টুইটার) পোস্টে তিনি লিখেছেন, “আজ ভারত তার নিউক্লিয়ার যাত্রায় এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল। স্বদেশীয়ভাবে ডিজাইন ও নির্মিত কল্পক্কমের প্রোটোটাইপ ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর ক্রিটিক্যালিটি অর্জন করেছে।” প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন যে, এই রিঅ্যাক্টর আমাদের বৈজ্ঞানিক ক্ষমতা ও ইঞ্জিনিয়ারিং দক্ষতার গভীরতা প্রমাণ করে।
থোরিয়াম সম্পদকে কাজে লাগিয়ে দেশকে শক্তিতে স্বনির্ভর করার পথে এটি এক সিদ্ধান্তমূলক অগ্রগতি।এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে আমাদের বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের দীর্ঘদিনের অক্লান্ত পরিশ্রম। ২০০৪ সালে নির্মাণ শুরু হয়েছিল এই প্রকল্পের। বহু বছর ধরে নানা প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে, নিরাপত্তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করে অবশেষে এই মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। ইন্দিরা গান্ধী সেন্টার ফর অ্যাটমিক রিসার্চ (আইজিসিএআর)-এর বিজ্ঞানীরা এবং ভাভিনির টিমের অবদান অসামান্য।
তাঁদের উৎসর্গ ও দক্ষতা ছাড়া এই স্বপ্ন বাস্তব হতো না। প্রধানমন্ত্রীও তাঁদের অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং বলেছেন, এই অর্জন গোটা দেশের গর্ব।কেন এই রিঅ্যাক্টর এত গুরুত্বপূর্ণ? ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর সাধারণ নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টরের চেয়ে অনেক বেশি দক্ষ। এটি ইউরেনিয়াম-২৩৮ থেকে প্লুটোনিয়াম-২৩৯ তৈরি করে, যা আবার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
ফলে জ্বালানির অপচয় কমে এবং বর্জ্যও অনেক কম হয়। ভারতের বিশাল থোরিয়াম রিজার্ভ (বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ) কে কাজে লাগিয়ে তৃতীয় স্তরে থোরিয়াম-ভিত্তিক রিঅ্যাক্টর চালু করার পথ প্রশস্ত করবে এই পিএফবিআর। এর ফলে দেশের শক্তি চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়বে। কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়েও সাহায্য করবে এই প্রযুক্তি।




















