ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ৩,২৪০ কিলোমিটার বেড়া দেওয়া শেষ! জানাল কেন্দ্র

নয়াদিল্লি: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে ভারত সরকারের (Bangladesh border)একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুসারে, মোট ৪,০৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সীমান্তের মধ্যে ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
india-bangladesh-border-fencing-3240-km-completed

নয়াদিল্লি: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে ভারত সরকারের (Bangladesh border)একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুসারে, মোট ৪,০৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সীমান্তের মধ্যে প্রায় ৩,২৪০ কিলোমিটারে ইতিমধ্যে কাঁটাতারের বেড়া (ফেন্সিং) সম্পূর্ণ করা হয়েছে। এটি মোট দৈর্ঘ্যের প্রায় ৭৯ শতাংশ। বাকি প্রায় ৮৫৬ কিলোমিটার অংশে কাজ চলছে বা কিছু অংশে ভৌগোলিক কারণে সম্ভব নয়।

এই খবর সোশ্যাল মিডিয়া এবং সরকারি সূত্রে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকে এটিকে জাতীয় নিরাপত্তার বড় মাইলফলক বলে অভিহিত করছেন।ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বিশ্বের ষষ্ঠ দীর্ঘতম স্থল সীমান্ত এবং ভারতের সবচেয়ে লম্বা আন্তর্জাতিক সীমান্ত। এটি পশ্চিমবঙ্গ, অসম, মেঘালয়, ত্রিপুরা এবং মিজোরামের মধ্য দিয়ে গেছে। অনেক অংশ নদীময়, জলাভূমি, ঘন জঙ্গল এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত, যা ফেন্সিংয়ের কাজকে জটিল করে তোলে।

   

আর দেখুন: আশিসের চোটের ধাক্কা সামলাতে বাগান শিবিরে আসছে এই দুর্ধর্ষ ফুটবলার!

তবু সরকার ২০০০-এর দশক থেকে এই প্রকল্প চালিয়ে যাচ্ছে। লক্ষ্য হলো অবৈধ অনুপ্রবেশ, গরু-মহিষ পাচার, মাদক চোরাচালান, মানব পাচার এবং অন্যান্য সীমান্ত অপরাধ রোধ করা। বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) এই ফেন্সিংয়ের সঙ্গে প্যাট্রোলিং, নজরদারি এবং অ্যান্টি-টানেলিং অভিযান চালিয়ে সীমান্তকে আরও নিরাপদ করছে।সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সংসদে জানানো হয়েছিল যে ৩,২৩৯.৯২ কিলোমিটার ফেন্সিং সম্পূর্ণ হয়েছে, যা ৭৯.০৮ শতাংশ।

এখন ২০২৬-এর শুরুতে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এবং সরকারি আপডেটে সংখ্যাটি ৩,২৪০ কিলোমিটারে পৌঁছেছে। এই অগ্রগতি দেখিয়ে দিচ্ছে যে প্রকল্পটি দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। অবশিষ্ট অংশে কাজ চলছে, যদিও কিছু জায়গায় ভূমি অধিগ্রহণ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর আপত্তি, বর্ষাকালীন কাজের সীমাবদ্ধতা এবং ভূমিধস-জলাভূমির সমস্যা রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে সবচেয়ে বেশি অংশ (প্রায় ২,২১৭ কিলোমিটার) এবং সেখানেই সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জ।

এই ফেন্সিং প্রকল্প শুধু নিরাপত্তার জন্য নয়, স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রাকেও প্রভাবিত করছে। অনেক এলাকায় বেড়া তৈরির পর সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে চলাচল নিয়ন্ত্রিত হয়েছে, যা কখনো কখনো অসুবিধা সৃষ্টি করে। তবে সরকার দাবি করছে যে এটি সীমান্তবাসীদের নিরাপত্তা বাড়াবে এবং অপরাধ কমাবে। বাংলাদেশের সঙ্গে সমন্বয় করে প্যাট্রোলিং এবং যৌথ অভিযান চালানো হচ্ছে।

২০১৫ সালের ল্যান্ড বাউন্ডারি অ্যাগ্রিমেন্টের পর এনক্লেভ সমস্যা মিটে গেলেও, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং চোরাচালান এখনও চ্যালেঞ্জ।এই অগ্রগতিকে অনেকে ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা নীতির সাফল্য বলছেন। পাকিস্তান সীমান্তে ৯৩ শতাংশেরও বেশি ফেন্সিং সম্পূর্ণ হয়েছে, আর বাংলাদেশ সীমান্তে এখন প্রায় ৮০ শতাংশ। মিয়ানমার সীমান্তে অগ্রগতি কম, কিন্তু বাংলাদেশ সীমান্তে এই প্রকল্পটি অগ্রাধিকার পেয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সম্পূর্ণ ফেন্সিং শেষ করা, যাতে সীমান্ত আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google