নয়াদিল্লি: ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আরেকটি বড় পদক্ষেপ! রাশিয়া থেকে অতিরিক্ত ২৮৮টি এস-৪০০ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (S-400 missiles) কেনার জন্য অ্যাকসেপট্যান্স অফ নেসেসিটি (AoN) অনুমোদন দিয়েছে প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ কাউন্সিল (DAC)। এই চুক্তির আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০,০০০ কোটি টাকা। এই সিদ্ধান্ত ভারতের বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং আঞ্চলিক হুমকির মুখে দ্রুত প্রস্তুতি নিশ্চিত করবে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর নেতৃত্বাধীন DAC-এর বৈঠকে এই AoN অনুমোদিত হয়েছে শুক্রবার। সূত্রের খবর অনুসারে, এই ২৮৮টি মিসাইলের মধ্যে ১২০টি শর্ট-রেঞ্জ এবং ১৬৮টি লং-রেঞ্জ মিসাইল। কেনাকাটা হবে ফাস্ট ট্র্যাক প্রসিডিউর (FTP)-এর মাধ্যমে, যাতে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত হয়। এই মিসাইলগুলো এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ সিস্টেমের জন্য, যা বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমগুলোর একটি।
আরও দেখুন:সাউথ ব্লক ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! নয়া ঠিকানা ‘সেবা তীর্থ’-তে বসেই নিলেন বড় সিদ্ধান্ত
এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হলো গত বছর মে মাসে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ এস-৪০০-এর ব্যাপক ব্যবহার। অপারেশন সিঁদুরে এই সিস্টেম প্রমাণিত হয়েছে যুদ্ধক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর। স্টক পুনরায় পূরণ করতে এবং ভবিষ্যতের যুদ্ধ প্রস্তুতির জন্য এই অতিরিক্ত মিসাইলের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। ভারতীয় বায়ুসেনা (IAF) ইতিমধ্যে ২০১৮-এর ৫.৪৩ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে পাঁচটি রেজিমেন্টের এস-৪০০ পাচ্ছে।
এর মধ্যে তিনটি ডেলিভারি হয়েছে, বাকি দুটি আসবে জুন এবং নভেম্বর ২০২৬-এ। এই নতুন মিসাইল কেনা হবে বিদ্যমান সিস্টেমগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে।এস-৪০০-এর ক্ষমতা অসাধারণ ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত রেঞ্জ, একসঙ্গে ৩৬টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা, স্টিলথ ফাইটার, ক্রুজ মিসাইল, ব্যালিস্টিক মিসাইল সবকিছু প্রতিরোধ করতে পারে।
অপারেশন সিঁদুরে এটি পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করে প্রমাণ করেছে। এই অতিরিক্ত মিসাইল কেনায় ভারতের মাল্টি-লেয়ারড এয়ার ডিফেন্স নেটওয়ার্ক আরও মজবুত হবে।এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক মহলে উচ্ছ্বাস। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের গভীরতা দেখায়, যদিও CAATSA-এর মতো মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি ছিল। মোদী সরকারের ‘আত্মনির্ভর ভারত’ এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ লক্ষ্যের সঙ্গে এটি মিলে যায়। একই দিনে ১১৪টি রাফায়েল ফাইটার জেট কেনারও অনুমোদন হয়েছে, যা মোট প্রতিরক্ষা কেনাকাটাকে ৩.৬ লক্ষ কোটি টাকার কাছাকাছি নিয়ে গেছে।




















