নয়াদিল্লি: যুদ্ধের ঝড় (Middle East Crisis) অনেক আগে থেকেই উঠেছে সেকথা আমরা সবাই জানি। তবে সেই যুদ্ধের ফলে যেই চিত্র সামনে এসেছে তা ভোলার নয়। আমেরিকা এবং ইজরায়েল মিলে হামলা চালিয়েছে ইরানে। আর সেই কারনেই পরিস্থিতি এখন আলাদাই রূপ নিয়েছে। বন্ধ খরমুজ প্রণালী।
মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশের আকাশ বন্ধের পাশাপাশি তেল এবং গ্যাসের সঙ্কট দেখা গিয়েছে। পাশাপাশি বড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে আরও কয়েকটি সেক্টর। যেমন এই যুদ্ধের জন্য ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছে ভারতের রত্ন এবং জুয়েলারি শিল্পের হালও।
জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি এক্সপোর্ট প্রোমোশন কাউন্সিল জানাচ্ছে, এই যুদ্ধের কারণে ক্ষতি হয়েছে ২ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ ভারতীয় টাকায় যার মুল্য ১৮৫০০ কোটি টাকার। এক অপূরণীয় ক্ষতি! এর ফলে চিন্তা বাড়ছে ব্যবসায়ীদের মনে।
এই কাউন্সিলের তরফে জানান হয়, ভারত রত্ন এবং জুয়েলারির মোট রফতানির অনেকটাই পাঠানো হয় মধ্যপ্রাচ্যে। এই যুদ্ধের প্রকপে ২০ শতাংশের বেশী ক্ষতি হয়েছে বলে খবর।
কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর সব্যসাচী রায় বলেন, ‘২ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য নষ্ট হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি ৮০০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য অন্য কোথাও পাঠানোর। কিন্তু ১.২ বিলিয়ন ডলারের জিনিস কোথাও পাঠাতে পারছি না।’ আর এই কারণেই বড় ক্ষতি হতে পারে।
এবার আসা যাক ভারতের রফতানির দিকে। উল্লেখ্য, ২০২৫ অর্থবর্ষে আমেরিকায় ২৯ বিলিয়ন ডলারের জুলেয়ারি এবং রত্ন রফতানি করেছে ভারত। এটাই ছিল সর্বোচ্চ। যদিও এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে UAE। এই দেশে ৭.৮৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য পাঠান হয়েছিল। কিন্তু আমেরিকা শুল্ক চাপানোর ফলে আগেই সেই রফতানিতে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। এই অর্থবর্ষে মাত্র ৮.৩৩ বিলিয়ন ডলারই রফতানি করা হয়েছে।
পাশাপাশি দুবাইয়ের দিকে চোখ রাখলে, আমেরিকা, ইজরায়েল এবং ইরানের যুদ্ধে যদি দুবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে বড় বিপদ হতে পারে। দুবাইতে রফতানির পরিমাণ অনেক বেশী। তারপর দুবাই থেকে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে জুয়েলারি এবং রত্ন। তাই এখানে সমস্যা হলে বিপদ হতে পারে।
বড়সড় ক্ষতির আশঙ্কা করছে ব্যবসায়ীরা তাঁর কারণ,মাথায় রাখতে হবে, জুয়েলারি এবং রত্ন রফতানি সাধারণ সমুদ্র পথে হয় না। এটা হয় আকাশপথে। যদিও ইরানের এই যুদ্ধের ফলে আকাশপথে কিছু সীমা বন্ধ করা হয়েছে। যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসা। এর ফলেই বড় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। এখন দেখার পরিস্থিতি ঠিক কোন দিকে গড়ায়!




















