ভারতীয় বিমান বাহিনী (IAF ROCKS Missile Deal) তাদের আক্রমণ ক্ষমতা জোরদার করছে। আইএএফ এখন ইজরায়েলের ROCKS ক্ষেপণাস্ত্র কেনার পরিকল্পনা দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি সম্প্রতি একটি সুখোই এসইউ-৩০এমকেআই যুদ্ধবিমান থেকে সফলভাবে পরীক্ষা করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় ২০০টি ক্ষেপণাস্ত্র কেনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। ভারতে সেগুলো তৈরির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর বিশেষত্ব কী?
ROCKS হলো আকাশ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য একটি নির্ভুলভাবে লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র, যা শক্তিশালী ও সু-সুরক্ষিত শত্রু লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি দূর থেকে আঘাত হানতে পারে, ফলে শত্রু ভূখণ্ডে যুদ্ধবিমানের প্রবেশের প্রয়োজন হয় না। এতে জিপিএস এবং আইএনএস ভিত্তিক উন্নত নেভিগেশন সিস্টেম রয়েছে। এর ফলে এটি অত্যন্ত নির্ভুল হয়। এটি বাঙ্কার, বিমানঘাঁটি, রাডার স্টেশন এবং কমান্ড সেন্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে এবং শত্রুর বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়াতে সক্ষম।
ভারতের জন্য এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
আধুনিক যুদ্ধে দূরপাল্লার নির্ভুল আঘাত হানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এস-৪০০-এর মতো শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার যুগে এই অস্ত্রটি অপরিহার্য। ROCKS ক্ষেপণাস্ত্র এই চাহিদা পূরণ করে এবং ভারতের আক্রমণ ক্ষমতাকে এক নতুন স্তরে উন্নীত করতে পারে।
এসইউ-৩০এমকেআই দিয়ে পরীক্ষা
ক্ষেপণাস্ত্রটি ভারতীয় এসইউ-৩০এমকেআই যুদ্ধবিমানের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর মানে হলো, এটিকে দ্রুত পরিষেবায় অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। এর জন্য বড় কোনো প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না। এই চুক্তির একটি মূল দিক হলো ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগ। সরকার চায় এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ভারতেই উৎপাদিত হোক। এর ফলে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প গতি পাবে। এটি কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়াবে এবং ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষমতাকে শক্তিশালী করবে।
যদিও প্রকল্পটি ব্যয়, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত কিছু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন, তবুও এর সুফলগুলো এই প্রতিবন্ধকতাগুলোকে অনেক বেশি ছাড়িয়ে যায়। ROCKS ক্ষেপণাস্ত্র ক্রয় ভারতীয় বিমান বাহিনীর জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে।




















