হুগলি: বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে এসে বিজেপির তীব্র সমালোচনা করলেন গোলাম আহমদ মীর৷ পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেসের দায়িত্বে থাকা এই নেতা রবিবার হুগলিতে এক সভায় বিজেপির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি রাজ্যে নির্বাচনের সময় বিজেপির অগ্রবর্তী দলে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলো সক্রিয় থাকে, কিন্তু নির্বাচন শেষ হলেই সেগুলো আর খুঁজে পাওয়া যায় না।
গোলাম আহমদ মীরের বক্তব্য
কংগ্রেস নেতা স্পষ্টভাবে বলেন, “প্রতিটি রাজ্যে নির্বাচনের সময় বিজেপির অগ্রবর্তী দলে সিবিআই, ইডি এবং আয়কর বিভাগ থাকে। কিন্তু নির্বাচন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইডি, সিবিআই বা আয়কর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না।”
তিনি আরও বলেন, “ঝাড়খণ্ডে নির্বাচনের সময় বড় বড় রেইড হয়েছিল, কিন্তু নির্বাচন শেষ হওয়ার পর কিছুই হয়নি। বিহারে নির্বাচনের আগে ইডি ও সিবিআই সবসময় তাদের সমর্থন করেছে। তারা আসলে বিজেপির নির্বাচনী অংশীদার।”
গোলাম আহমদ মীরের এই মন্তব্য হুগলির রাজনৈতিক ময়দানে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। তিনি অভিযোগ করেন যে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলোকে বিজেপি নির্বাচনী অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে।
কংগ্রেসের অভিযোগের তাৎপর্য
কংগ্রেস নেতা বলেন যে বিজেপি নির্বাচনের আগে বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে সিবিআই, ইডি ও আয়করের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করে। কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে সেই তদন্তগুলো আর এগোয় না।
তিনি ঝাড়খণ্ড ও বিহারের উদাহরণ দিয়ে বলেন:
• ঝাড়খণ্ডে নির্বাচনের আগে বড় বড় রেইড হয়েছিল, কিন্তু পরে কিছুই হয়নি।
• বিহারে নির্বাচনের আগে ইডি ও সিবিআই বিজেপির হয়ে কাজ করেছে।
গোলাম আহমদ মীরের মতে, এই সংস্থাগুলো বিজেপির “নির্বাচনী অংশীদার” হয়ে উঠেছে।
পশ্চিমবঙ্গ প্রসঙ্গ
পশ্চিমবঙ্গে চলমান বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে কংগ্রেস নেতার এই বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। তিনি ইঙ্গিত করেন যে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গেও একই কৌশল অনুসরণ করছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর মাধ্যমে তৃণমূল ও কংগ্রেস নেতাদের উপর চাপ তৈরি করা হচ্ছে।
বিজেপির প্রতিক্রিয়া
বিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগের সরকারি ভাবে কোন জবাব দেওয়া হয়নি। তবে দলের নেতারা হাবভাবে বুঝয়ে দিয়েছেন, এগুলো সবই “ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক প্রচার”৷ বিজেপি মনে করে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত চালানো তাদের দায়িত্ব এবং এতে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই।
হুগলিতে গোলাম আহমদ মীরের এই সভা কংগ্রেসের প্রচারে নতুন গতি এনেছে। তিনি কংগ্রেস কর্মীদের আহ্বান জানিয়েছেন যে বিজেপির এই “অপকৌশল”-এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রচার যত এগোচ্ছে, কংগ্রেস, তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের খেলা আরও তীব্র হচ্ছে। গোলাম আহমদ মীরের এই বক্তব্য দেখিয়ে দিচ্ছে যে কংগ্রেস বিজেপির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলোকে “রাজনৈতিক অস্ত্র” বলে আক্রমণ করে ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে চাইছে।




















