নয়াদিল্লি: নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন করতে জেলাশাসকদের জন্য ১০ দফা নির্দেশিকা জারি করল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)৷ ভোটকর্মী নিয়োগ, দায়িত্ব বণ্টন এবং ঘাটতি সামলানোর ক্ষেত্রে এই নির্দেশিকায় স্পষ্ট দিশা দেওয়া হয়েছে৷ কমিশন জানিয়েছে, কোনও জেলায় ভোটকর্মীর অভাব দেখা দিলে প্রতিবেশী জেলা থেকে কর্মী এনে সেই ঘাটতি পূরণ করতে হবে৷ এই আন্তঃজেলা সমন্বয়ের মাধ্যমে ভোট পরিচালনায় কোনও রকম বিঘ্ন এড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে৷
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলির মধ্যে রয়েছে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বাদ দেওয়া৷ কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, কন্ট্রাকচুয়াল কর্মীদের ভোটের কাজে নিযুক্ত করা যাবে না৷ শুধুমাত্র স্থায়ী কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি কর্মীদের দিয়েই পোলিং পার্টি গঠন করতে হবে৷ একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য কর্মীদের পৃথক তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷
কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে তাঁদের সিনিয়রিটি ও পে-স্কেলের উপর জোর দেওয়া হয়েছে৷ পোলিং পার্টি গঠনের সময়ও সিনিয়রিটি বজায় রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাতে অভিজ্ঞ কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাতে পারেন৷ এই নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ বাধ্যতামূলক নয়৷ প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই নজরদারি চালাতে হবে৷ পাশাপাশি, মহিলা পোলিং পার্টির সংখ্যা বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা নারী অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করবে৷
ভোটকেন্দ্রে ব্লক লেভেল অফিসারদের নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ভোট শেষে ইভিএম জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা যায়৷ কর্মীদের ছাড় দেওয়ার ক্ষেত্রেও কড়া নির্দেশ জারি করা হয়েছে। শুধুমাত্র অত্যন্ত জরুরি ক্ষেত্রে সীমিত সংখ্যক কর্মীকে ছাড় দেওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে৷ ফলে ভোটকর্মীর ঘাটতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকবে৷
ভোটকর্মীদের জন্য একটি ইতিবাচক দিকও তুলে ধরা হয়েছে৷ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে বা দুর্ঘটনার শিকার হলে, তাঁদের বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে৷ এই সংক্রান্ত সমস্ত খরচ বহন করবে রাজ্য সরকার৷ ইতিমধ্যেই স্বরাষ্ট্র দফতর এই বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে৷




















