মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক বাঁচাতে সরল দুর্গাঙ্গন! হিন্দুত্ব রক্ষায় বিপাকে মমতা

কলকাতা: নিউ টাউনে প্রস্তাবিত দুর্গাঙ্গনের শিলান্যাসের আগেই জমি (Durga Angan land controversy)সংক্রান্ত বিতর্কে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। আগামীকাল, ২৯ ডিসেম্বর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে দুর্গাঙ্গনের আনুষ্ঠানিক শিলান্যাস হওয়ার কথা ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
durga-angan-land-controversy-new-town

কলকাতা: নিউ টাউনে প্রস্তাবিত দুর্গাঙ্গনের শিলান্যাসের আগেই জমি (Durga Angan land controversy)সংক্রান্ত বিতর্কে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। আগামীকাল, ২৯ ডিসেম্বর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে দুর্গাঙ্গনের আনুষ্ঠানিক শিলান্যাস হওয়ার কথা ছিল। নিউ টাউনের ওয়েস্ট ইন হোটেলের পিছনে, ইকো পার্ক সংলগ্ন এলাকায় জমি অধিগ্রহণও করা হয়েছিল। কিন্তু সেই জমি নিয়েই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক, যার জেরে শিলান্যাসের স্থান বদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

শুভেন্দুর দাবি অনুযায়ী, বিগত দু’মাস ধরে ওই জমিতে মাটি ভরাটের কাজের জন্য টেন্ডার ডাকা হয় এবং ‘সিন্ডিকেট চক্র’-ঘনিষ্ঠ কিছু সংস্থাকে কাজের বরাত দেওয়া হয়। বিশ্ব বাংলা সরণি সংলগ্ন ওয়েস্ট ইন হোটেলের উল্টো দিকে বিশাল মঞ্চও তৈরি করা হয়েছিল শিলান্যাস অনুষ্ঠানের জন্য। কিন্তু হঠাৎ করেই গোটা পরিকল্পনায় ছেদ পড়ে।

   

শতদ্রু দত্তর জামিন আবেদন খারিজ করল আদালত, জেল হেফাজতেই রাখার নির্দেশ

বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, যে জমিতে দুর্গাঙ্গন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, সেই জমির মালিকানায় কিছু মুসলিম পরিবারের অংশীদারিত্ব ছিল। তাঁদের পরিবার এবং স্থানীয় মুসলিম সমাজের পক্ষ থেকে আপত্তি তোলা হয় কেন তাঁদের অধিগ্রহণ করা জমিতে সরকারি অর্থে একটি হিন্দু ধর্মীয় স্থাপনা তৈরি করা হবে। এই আপত্তির জেরেই সরকার চাপে পড়ে বলে দাবি শুভেন্দুর। রীতিমত টেন্ডার ডেকে সিন্ডিকেট চক্রের সঙ্গে যুক্ত ব্যাবসায়ীদের সংস্থাদের দিয়ে ওই জমি ভরাটও করানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন শুভেন্দু।

এই পরিস্থিতিকে সামনে রেখে মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র কটাক্ষ করেন বিরোধী দলনেতা। শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, “নিজেকে হিন্দু প্রমাণ করতে গিয়ে মাননীয়া বিপাকে পড়েছেন। দুর্গাঙ্গন, মহাকাল মন্দিরের মতো প্রকল্প ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী, কিন্তু একই সঙ্গে মুসলিম ভোটব্যাঙ্ককে অসন্তুষ্ট করার ঝুঁকিও নিচ্ছেন না মমতা।”

তাঁর দাবি, এই দ্বন্দ্বের কারণেই দ্রুত স্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে সরকারকে। শুভেন্দুর আরও অভিযোগ, শেষ পর্যন্ত দুর্গাঙ্গনের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে নিউ টাউনের বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায়। কিন্তু সেই জমিও শিল্প ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত ছিল। ফলে এই জমি অধিগ্রহণে প্রশাসনিক নিয়ম এবং শিল্পের জন্য জমির অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী দলনেতা।

বিরোধী শিবিরের মতে, এই ঘটনা প্রমাণ করে ধর্মীয় আবেগকে সামনে রেখে রাজনৈতিক লাভের চেষ্টা কতটা বিপজ্জনক হতে পারে। শুভেন্দু বলেন, “মা দুর্গাকে নিয়ে রাজনীতি করতে গিয়ে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ‘মেসি ম্যাজিক’ দেখাতে গিয়ে এবার ‘মেসি ম্যাসাকার’-এর মতো অবস্থা হয়েছে।” তিনি দাবি করেন, আগামী দিনে এই ধরনের সিদ্ধান্তের খেসারত সরকারকে আরও বড়ভাবে দিতে হতে পারে।

অন্যদিকে, শাসক শিবিরের তরফে এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগগুলির বিষয়ে কোনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। প্রশাসনিক সূত্রের একাংশের দাবি, দুর্গাঙ্গনের স্থান পরিবর্তন একটি “প্রযুক্তিগত ও পরিকল্পনাগত সিদ্ধান্ত”, যার সঙ্গে ধর্ম বা ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুর্গাঙ্গন ইস্যু ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা আসন্ন নির্বাচনের আগে শাসকদল ও বিরোধীদের সংঘাতকে আরও তীব্র করবে। জমি অধিগ্রহণ, ধর্মীয় প্রকল্প ও ভোটব্যাঙ্ক এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে জড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিকভাবেও অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google