কলকাতা: ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক লড়াই ক্রমশ জমে উঠছে। (Dipanjan Chakraborty)হুগলি জেলার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র উত্তরপাড়া-তে এবার চমকপ্রদ প্রার্থী ঘোষণা করল ভারতীয় জনতা পার্টি। প্রাক্তন এনএসজি কমান্ডো তথা নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ দীপাঞ্জন চক্রবর্তীকে এই কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয়েছে, যা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
দীপাঞ্জন চক্রবর্তী দীর্ঘদিন দেশের অন্যতম এলিট নিরাপত্তা বাহিনী National Security Guard (NSG)-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর কর্মজীবনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। নিরাপত্তা ও সন্ত্রাস দমনে তাঁর দক্ষতা এবং মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা তাঁকে সাধারণ রাজনৈতিক প্রার্থীদের থেকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।
রাজনীতিতে তাঁর প্রবেশও ছিল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন। সেই সময় তাঁর পাশে ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই যোগদান ছিল বিজেপির একটি কৌশলগত পদক্ষেপ, যেখানে নিরাপত্তা ইস্যুকে সামনে রেখে ভোটের লড়াইকে আরও তীব্র করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
দলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই দীপাঞ্জন চক্রবর্তী রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরব হয়েছেন। তিনি বারবার অভিযোগ তুলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় উগ্রপন্থী কার্যকলাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়ছে। তাঁর বক্তব্য, প্রশাসনের আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণ করতে হবে।
উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন শীর্ষন্য মুখোপাধ্যায়। অন্যদিকে বামফ্রন্টের তরফে লড়াইয়ে আছেন মীনাক্ষী মুখার্জি। ফলে এই কেন্দ্রে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা নির্বাচনকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীপাঞ্জন চক্রবর্তীর মতো একজন প্রাক্তন নিরাপত্তা কর্মকর্তা প্রার্থী হওয়ায় বিজেপি ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি’ ইস্যুকে সামনে এনে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চল ও শিক্ষিত ভোটারদের মধ্যে এই ইস্যুর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এই ইস্যুকে তেমন গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাদের মতে, উন্নয়ন ও সামাজিক প্রকল্পই নির্বাচনে মূল ফ্যাক্টর হবে। বামফ্রন্টও নিজেদের সংগঠন শক্তি এবং মাঠপর্যায়ের কাজকে ভরসা করে লড়াইয়ে নামছে।




















