শ্মশানকালীর জায়গা জবরদখল! গেরুয়ারাজ্যে বিপাকে বাঙালি পুজো কমিটি

ধুবড়ী: ধুবড়ী-কচুগাঁও সড়কের ফলিমারি পার্ট-টু এলাকায় রয়েছে প্রসিদ্ধ ঐতিহাসিক শ্মশান কালী মন্দির৷ এই মন্দির সংলগ্ন শ্মশানের জমি জবরদখলের অভিযোগকে কেন্দ্র করেই রণক্ষেত্রের রূপ নিল গোটা এলাকা। এই ঘটনাকে ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us
Dhubri Kali Temple Encroachment

ধুবড়ী: ধুবড়ী-কচুগাঁও সড়কের ফলিমারি পার্ট-টু এলাকায় রয়েছে প্রসিদ্ধ ঐতিহাসিক শ্মশান কালী মন্দির৷ এই মন্দির সংলগ্ন শ্মশানের জমি জবরদখলের অভিযোগকে কেন্দ্র করেই রণক্ষেত্রের রূপ নিল গোটা এলাকা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঝগড়াড়পার, তিয়ামারি এবং ফলিমারি পার্ট-টু গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে মন্দিরের জমি দখল করে অবৈধ নির্মাণ চালানো হচ্ছে।

অভিযোগের বিস্তারিত

মন্দির কমিটি এবং গ্রাম পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মন্দির ও শ্মশানের নামে নথিভুক্ত প্রায় ১০ বিঘা জমি বর্তমানে জবরদখলকারীদের কবলে। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে মূল মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে ৩০০ মিটার উত্তরে। অভিযোগ, সেখানে প্রায় ৩ বিঘা জমি দখল করে বসতবাড়ি তৈরি করা হয়েছে।

   

বিপন্ন শেষকৃত্যের অধিকার Dhubri Kali Temple Encroachment

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই জমি মন্দির ও শ্মশানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। জমি হাতছাড়া হওয়ায় শ্মশানের কাজের জায়গা কমে আসছে, যা ভবিষ্যতে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পাদনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। এক ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী বলেন, ‘‘এটি কেবল জমির লড়াই নয়, এটি আমাদের ধর্মীয় মর্যাদা এবং প্রিয়জনদের শেষ বিদায় জানানোর অধিকার রক্ষার লড়াই। প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে মন্দিরের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে।’’

প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ

অভিযোগ, বারংবার স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়েও কোনও সদুত্তর মেলেনি৷ কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। এই প্রশাসনিক উদাসীনতার প্রতিবাদে তিন গ্রামের মানুষ একজোট হয়ে অবিলম্বে অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলার দাবি জানানো হয়েছে৷ মন্দিরের জমি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিও জোরদার হচ্ছে।

বড় আন্দোলনের ডাক

ফলিমারি পার্ট-টু এলাকায় পরিস্থিতি বর্তমানে থমথমে। গ্রামবাসী ও মন্দির ম্যানেজমেন্ট কমিটির পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, প্রশাসন যদি অবিলম্বে উচ্ছেদ অভিযান না চালায় এবং মন্দিরের জমি সুরক্ষিত না করে, তবে আগামী দিনে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।

Follow on Google