কলকাতা: ভোটের দিনের উত্তেজনা যখন চরমে, তখন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভা সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন (Derek O Brien)প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, “নরেন্দ্র, আপনি ঘোষণা করেছিলেন যে বাংলার সব ২৯৪টি আসনে আপনিই প্রার্থী। বড় বড় কথা ছেড়ে দিন। এই চ্যালেঞ্জ স্বীকার করুন। ৪ মে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেস বাংলা জিতবে, তখন প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে রেজিগনেশন দিন। হ্যাঁ, দম আছে তো?”
এই মন্তব্যটি বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় ও শেষ দফার ভোটগ্রহণের দিনে এসেছে। ২৯ এপ্রিল ভোটারদের লাইন যখন লম্বা হচ্ছে, তখনই ডেরেক ও’ব্রায়েনের এই পোস্ট রাজনৈতিক মহলে ঝড় তুলেছে। তিনি মোদীর দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন যে, বিজেপি নেতৃত্ব বারবার বাংলায় ‘২৯৪-এ ২৯৪’ জয়ের বড়াই করেছেন।
আরও দেখুনঃ ‘ঠ্যালায় না পড়লে বেড়াল গাছে ওঠে না!’ খিদিরপুরে বিস্ফোরক শুভেন্দু
ডেরেকের এই চ্যালেঞ্জের পিছনে রয়েছে তৃণমূলের আত্মবিশ্বাস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল চতুর্থবার ক্ষমতায় ফিরতে চাইছে। দলের নেতারা বলছেন, বাংলার মাটিতে ‘বাহিরের’ শক্তি কখনোই স্থায়ী হয় না। মানুষ নিজেদের মেয়েকেই আবার চাইবেন। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বিজেপি বারবার বলে এসেছেন যে, এবার বাংলায় পরিবর্তন আসবেই। শুভেন্দু অধিকারী, দিলীপ ঘোষের মতো নেতারা মাঠে ঘুরে মমতা সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজের অভিযোগ তুলেছেন।
তাঁরা বলছেন, বাংলার যুবকদের চাকরি নেই, শিল্প আসছে না, আর সাধারণ মানুষ ভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।ডেরেক ও’ব্রায়েনের পোস্টে ‘হ্যাঁ, দম আছে তো?’ এই প্রশ্নটি বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। তৃণমূল কর্মীরা বলছেন, এটা শুধু চ্যালেঞ্জ নয়, এটা মোদীর ‘২৯৪-এ ২৯৪’ দাবির বিরুদ্ধে একটা সরাসরি জবাব। বিজেপি শিবির অবশ্য এই চ্যালেঞ্জকে ‘রাজনৈতিক নাটক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
তাঁরা বলছেন, নির্বাচনী ফলাফল ৪ মে স্পষ্ট হবে। যদি তৃণমূল জিতে যায়, তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবার মুখ্যমন্ত্রী হবেন। আর যদি বিজেপি ভালো ফল করে বা সরকার গড়ে, তাহলে বাংলায় নতুন যুগ শুরু হবে।এই চ্যালেঞ্জের মধ্যে বাংলার রাজনীতির গভীর বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একদিকে তৃণমূলের ‘বাংলার মেয়ে’ ব্র্যান্ডিং, অন্যদিকে বিজেপির ‘পরিবর্তন’ ও ‘বিকশিত বাংলা’র ডাক।
প্রথম দফায় রেকর্ড ভোটার উপস্থিতি দেখা গেছে। দ্বিতীয় দফা চলছে। এখন সবার চোখ ৪ মে-র দিকে। সেদিনই ভোট গণনা হবে এবং ফলাফল ঘোষণা করা হবে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ডেরেকের এই মন্তব্য তৃণমূলের আক্রমণাত্মক কৌশলের অংশ। তাঁরা চাইছেন, শেষ মুহূর্তে বিজেপিকে চাপে রাখতে। কিন্তু বিজেপি নেতারা জানিয়েছেন, তাঁরা মানুষের রায়ের উপর আস্থা রাখেন।



















