নয়াদিল্লি: দিল্লির বহুল চর্চিত আবগারি নীতি বা ‘মদ কেলেঙ্কারি’ মামলায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল আম আদমি পার্টি। শুক্রবার দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালত এই মামলা থেকে দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসোদিয়াকে সসম্মানে অব্যাহতি (Discharge) দিয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, সিবিআই যে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছিল, বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনায় তা ধোপে টেকেনি।
আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ
এদিন রায় ঘোষণার সময় বিশেষ আদালত স্পষ্ট জানায়, সিবিআই-এর দাখিল করা চার্জশিটে কেজরিওয়াল ও সিসোদিয়ার বিরুদ্ধে আনা কেন্দ্রীয় ষড়যন্ত্রের অভিযোগের সপক্ষে কোনও অকাট্য প্রমাণ মেলেনি। আদালতের গুরুত্বপূর্ণ কিছু পর্যবেক্ষণ হল, মনীশ সিসোদিয়ার ক্ষেত্রে কোনও ‘ক্রিমিনাল ইনটেন্ট’ বা অপরাধমূলক উদ্দেশ্য খুঁজে পায়নি আদালত। তদন্তকারী সংস্থা যে ১০০ কোটি টাকার ‘সাউথ লবি’ এবং ঘুষের তত্ত্ব খাড়া করেছিল, তার সপক্ষে দেওয়া নথিপত্র পর্যাপ্ত নয়। আদালত জানিয়েছে, কেজরিওয়াল মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তাকে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র বলা যায় না।
আবেগপ্রবণ কেজরিওয়াল-সিসোদিয়া Delhi excise policy case discharge
আদালতের রায়ের পর কেজরিওয়াল ও সিসোদিয়াকে একে অপরকে জড়িয়ে ধরতে দেখা যায়। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আপ সুপ্রিমো বলেন, “সত্যের জয় হলো। আমাদের জেল খাটানো হয়েছিল কেবল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে। আজ আদালত প্রমাণ করে দিল আমরা সৎ।” মনীশ সিসোদিয়াও একে ‘ভারতের বিচারব্যবস্থার ঐতিহাসিক জয়’ বলে বর্ণনা করেছেন। উল্লেখ্য, এই মামলায় সিসোদিয়াকে দীর্ঘ ১৭ মাস এবং কেজরিওয়ালকে প্রায় ৬ মাস জেল হেফাজতে থাকতে হয়েছিল।
পাল্টা চালে সিবিআই: যাচ্ছে হাইকোর্টে
আদালত এই দুই হেভিওয়েট নেতাকে অব্যাহতি দিলেও লড়াই এখনই থামছে না। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (CBI) জানিয়ে দিয়েছে, তারা রাউস অ্যাভিনিউ আদালতের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে দ্রুত দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে চলেছে। সিবিআই-এর দাবি, ষড়যন্ত্রের জালটি অত্যন্ত জটিল এবং এই পর্যায়ে অভিযুক্তদের মুক্তি দিলে তদন্তের গতি ব্যাহত হতে পারে।
রাজনৈতিক সমীকরণ
বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে এই রায় আপ-এর পালে বড় হাওয়া দেবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিজেপি যেখানে ‘মদ কেলেঙ্কারি’ নিয়ে আপ-কে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছিল, সেখানে আদালতের এই পর্যবেক্ষণ গেরুয়া শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা। এখন দেখার, হাইকোর্টে সিবিআই-এর আবেদন আদৌ ধোপে টেকে কি না।




















