কটক: ওড়িশার কটক রেলওয়ে স্টেশনে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স cuttack rpf)-এর সতর্ক সদস্যরা হাওড়া-পুরী ধৌলি এক্সপ্রেস থেকে নামা ৫৯ জন নাবালক ছেলেকে উদ্ধার করেছেন। এই শিশুরা, যাদের বয়স ৮ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে, সবাই বিহারের আরারিয়া জেলার দরিদ্র পরিবার থেকে এসেছিল। তাদেরকে জগৎসিংহপুরের একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করানোর নাম করে নিয়ে আসা হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটে স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম নম্বর ৪-এ। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে একদল শিশুকে একসঙ্গে নামতে দেখে RPF কর্মীরা সন্দেহজনক মনে করেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করতেই বেরিয়ে আসে পুরো কাহিনি। শিশুরা জানায়, তাদেরকে বিনামূল্যে ধর্মীয় শিক্ষা, খাবার ও থাকার ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। হাওড়া স্টেশনে এক মৌলানার সঙ্গে দেখা হয় এবং তারপর তাদের ওড়িশায় পাঠানো হয়।
কিছুক্ষণের মধ্যেই জগৎসিংহপুর জেলার রঘুনাথপুর এলাকার বাসিন্দা মৌলানা মহম্মদ আখলাদ স্টেশনে এসে উপস্থিত হন। তিনি দাবি করেন, শিশুদের জগৎসিংহপুরের দেউলিগ্রামেশ্বর এলাকার একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করাতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কিন্তু তিনি কোনো বৈধ কাগজপত্র, অভিভাবকের সম্মতিপত্র বা যথাযথ অনুমতি দেখাতে পারেননি। এতে পুরো বিষয়টি আরও সন্দেহজনক হয়ে ওঠে।
আরও দেখুনঃ বিজেপির প্রচারে বাঁধা! সবংয়ে ঘুসি মেরে তৃণমূল নেতাকে সবক কেন্দ্রীয় বাহিনীর
RPF তৎক্ষণাৎ চাইল্ডলাইনকে খবর দেয় এবং শিশুদের চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির হেফাজতে তুলে দেয়।মৌলানা আখলাখকেও পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই উদ্ধার অভিযানটি RPF-এর ‘অপারেশন নানহে ফরিস্তে’-এর অংশ। এই অভিযানের উদ্দেশ্যই হলো ট্রেনে একা বা সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে ভ্রমণরত শিশুদের রক্ষা করা এবং শিশু পাচার রোধ করা। এ মাসেই এটি ওড়িশায় তৃতীয় এমন ঘটনা। এর আগে ১১ এপ্রিল ১২ জন এবং ১ এপ্রিল ১৪ জন শিশুকে একইভাবে উদ্ধার করা হয়েছে।
সব ক্ষেত্রেই শিশুরা বিহারের বিভিন্ন জেলা থেকে এসেছে এবং মাদ্রাসায় ভর্তির প্রতিশ্রুতিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।পুলিশ এখন পুরো ঘটনার তদন্ত করছে। মৌলানা আখলাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দেখা হচ্ছে, এর পেছনে কোনো বড় নেটওয়ার্ক আছে কি না। শিশুদের পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে।
অনেক পরিবার দাবি করছে যে তারা নিজেরাই সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষার জন্য পাঠিয়েছে এবং সম্মতিপত্রও দিয়েছে। কিন্তু আইন অনুসারে নাবালকদের এভাবে রাজ্যের বাইরে নিয়ে যাওয়ার সময় যথাযথ কাগজপত্র ও অনুমতি না থাকলে তা সন্দেহের উদ্রেক করে। শিশু অধিকার আইন ও জুভেনাইল জাস্টিস অ্যাক্ট অনুসারে এখন শিশুদের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।




















