কলকাতা: কাশীপুরে নির্বাচনী নজরদারির মধ্যে বড়সড় মদ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। (liquor seizure)ভোটের আগে বেআইনি মদ মজুত ও পাচার রুখতে কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে প্রশাসন, আর তারই অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ মদ। ঘটনাটি ঘটেছে কাশীপুর থানা এলাকার রেললাইনের ধারে, শিব মন্দির সংলগ্ন এক খোলা জায়গায়।
জানা গেছে, নির্বাচনী বিধি কার্যকর থাকায় এলাকায় বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছিল CRPF র একটি দল। FST (ফ্লাইং স্কোয়াড টিম)-এর সদস্যরা ২০ এপ্রিল গভীর রাতে নিয়মিত টহলদারির সময় ওই এলাকায় সন্দেহজনক কিছু লক্ষ্য করেন। সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় পুলিশের প্রতিনিধি, এএসআই পি. কে. বৈদ্য। সন্দেহের বশে ওই খোলা জায়গায় তল্লাশি চালাতেই সামনে আসে চমকে দেওয়ার মতো তথ্য সেখানে গোপনে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বিপুল পরিমাণ মদ।
আরও দেখুনঃ ভোটের ড্রাই ডে’তে “বাংলা” সরকারের ক্ষতি ১৪০০ কোটি
প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, নির্বাচনের আগে এই মদ অবৈধভাবে বিতরণের পরিকল্পনা ছিল। ভোটের সময় প্রভাব বিস্তার করতে অনেক ক্ষেত্রেই বেআইনি মদের ব্যবহার হয় বলে অভিযোগ ওঠে, তাই প্রশাসন আগেভাগেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এই ঘটনাও সেই আশঙ্কাকেই আরও জোরালো করছে।
অভিযানের পর ঘটনাস্থলে আসেন সিভিল সেক্টর অফিসার শুভ্রদীপ বসু। তিনি পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে উদ্ধার হওয়া মদের পরিমাণ ও পরিস্থিতি যাচাই করেন। এরপর নিয়ম মেনে সমস্ত মদ এক্সাইজ দফতরের হাতে তুলে দেওয়া হয়। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় কারা জড়িত তা খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন, ওই জায়গাটি সাধারণত নির্জন থাকায় সেখানে বেআইনি কার্যকলাপ চালানো তুলনামূলক সহজ। তবে নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহলদারি বাড়ায় এই ধরনের ঘটনা দ্রুত ধরা পড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, এই ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হলে ভোটের সময় বেআইনি কার্যকলাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, কাশীপুর এলাকা আপাতত শান্তিপূর্ণ রয়েছে এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। রেললাইন সংলগ্ন অঞ্চল এবং মন্দিরের আশপাশেও অতিরিক্ত নজরদারি চালানো হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনও বেআইনি মজুত বা পাচারের ঘটনা না ঘটে।
নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশ অনুযায়ী, ভোটের আগে মদ বিক্রি ও পরিবহণের উপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। সেই কারণেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে FST টিম মোতায়েন করা হয়েছে। এই দলগুলি হঠাৎ হঠাৎ অভিযান চালিয়ে সন্দেহজনক জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে। কাশীপুরের এই ঘটনাও সেই ধারাবাহিক অভিযানেরই অংশ।




















