কলকাতা: বাংলায় এখন নির্বাচনী ঝড়। রাজ্যের জেলায় জেলায় নির্বাচন নিয়ে উত্তাপ বাড়ছে। (West Bengal dry day)আর মাত্র ৪৮ ঘন্টা পরেই প্রথম দফার ভোট গ্রহণ শুরু হবে। এই আবহেই গতকাল থেকে মদের দোকান থেকে বার, রেস্তোরাঁ, ক্লাব সবকিছুই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। হিসেবে বলছে সবমিলিয়ে সাড়ে ৯ দিন বন্ধ থাকবে রাজ্যে মদ বিক্রি। এই কদিনে বড় অংকের ক্ষতির মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে বঙ্গের রোজগার।
হিসেবে বলছে নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তে প্রায় ১৪০০ কোটি টাকা ক্ষতির মুখে দাঁড়িয়ে বাংলার সরকার। সরকারি হিসেবে অনুযায়ী রাজ্যে প্রত্যেকদিন গড়ে ₹৮০–₹১০০ কোটি টাকার মদ বিক্রি হয়। হিসেবে করলে ৯ বা সাড়ে নয় দিনের ক্ষতির পরিমান ৯০০ কোটি। তার উপরে রয়েছে এক্সসাইজ ডিউটি। এক্সসাইজ ডিউটি বাবদ রাজ্যের মোট আয় ৬৫ কোটি টাকা। সেই হিসেবে ৯ দিনের ক্ষতির পরিমান প্রায় ৬০০ কোটি টাকা।
আরও দেখুনঃ বড়জোড়ায় মঞ্চে নতজানু অভিষেক, কার উদ্দেশে প্রণাম?
সবমিলিয়ে ক্ষতির পরিমান ১৪ থেকে ১৫০০ কোটি টাকা। সরকারি হিসেবে বলছে শুধু অফ শপ নয়। রাজ্য জুড়ে জেলায় জেলায় রয়েছে বার, রেস্তোরাঁ, ক্লাব, পাব ইত্যাদি। সেগুলিতেও বিক্রি হয় মদ এবং নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশিকাতে তাদের অবস্থাও ত্রাহি মধুসূদন। শুধু তাই নয় এই ধরণের বার, রেস্তোরাঁগুলিতে কর্মরত রয়েছেন প্রায় ২ থেকে ৩ লক্ষ মানুষ। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তে তাদের রুটি রুজিতেও পড়েছে বাধা।
দোকানের বা রেস্তোরাঁ বারের মালিকরা বলেছেন পয়লা বৈশাখ বা সপ্তাহের শেষে মদ বিক্রির পরিমান বেড়ে যায় সুতরাং এই ধরণের সিদ্ধান্তে প্রচুর আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন তারা। কমিশনের এই সিদ্ধান্তে আলোচনা চলছে রাজনৈতিক মহলেও। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে নির্বাচন কমিশন এই মুহূর্তে বিজেপির কথায় চলছে। বিজেপি ক্ষমতায় আসার জন্য নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করছে বলেও তারা অভিযোগ করেছেন।
তারা আরও বলেছেন, বিজেপি কর্মসংস্থানের দোহাই দিচ্ছে কিন্তু ক্ষমতায় আসতে চেয়ে বাংলার খেটে খাওয়া মানুষদের পেটে লাথি মারছে তারা এমনটাই দাবি তাদের। তারা বলেছেন এই ৯-৯.৫ দিন কাজ থাকবে না প্রায় ২ থেকে ৩ লক্ষ মানুষের যারা এই পেশার সঙ্গে যুক্ত আছেন। তার উপর সংস্থার আর্থিক ক্ষতি হলে অনেকেরই বেতনের উপর সেই প্রভাব পড়বে বলেই মনে করছেন তারা।




















