
কলকাতা: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল। যা তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ১৫ বছরেও করতে পারেনি, (Chingrighata Metro)সেই চিংড়িঘাটা মেট্রোর গার্ডার লঞ্চিংয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে মাত্র ১৫-২১ দিনের মধ্যে। রেল ভিন্নায়িত নেটওয়ার্ক লিমিটেড (আরভিএনএল) নির্ধারিত সময়ের আগেই চিংড়িঘাটা ক্রসিংয়ে ৩৬৬ মিটারের গুরুত্বপূর্ণ অংশের কাজ শেষ করেছে। এই সাফল্যকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে আলোচনা চলছে।
নিউ গড়িয়া-এয়ারপোর্ট মেট্রো করিডরের অরেঞ্জ লাইনের এই অংশটি সম্পূর্ণ না হওয়ায় দক্ষিণ কলকাতার উপকণ্ঠ থেকে সেক্টর ফাইভের আইটি হাব পর্যন্ত যাতায়াত বহু বছর ধরে আটকে ছিল। চিংড়িঘাটা পয়েন্টটি ছিল সেই ‘মিসিং লিঙ্ক’, যা শেষ না হওয়ায় হাজার হাজার যাত্রী প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন। অথচ এই কাজ আটকে রাখার পেছনে কোনো প্রযুক্তিগত জটিলতা ছিল না বলে এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
আরও দেখুনঃ ‘২০১০ নুরুল ইসলামের দেগঙ্গার দাঙ্গায় সমর্থন ছিল কাকলির!’ বিস্ফোরক তথাগত
বারবার ট্রাফিক ডাইভার্সনের অনুমতি না দেওয়ায় প্রকল্প আটকে ছিল। আরভিএনএল শুধু দুটি সপ্তাহান্তে রাতের ট্রাফিক ব্লকেজ চেয়েছিল, কিন্তু তৃণমূল সরকার তা বারবার খারিজ করে দিয়েছিল।শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের নতুন প্রশাসনিক ব্যবস্থা দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতি পালটে যায়। অনুমতি মিলতেই আরভিএনএল টিম ঝাঁপিয়ে পড়ে কাজে। দিনরাত পরিশ্রম করে অসম্ভবকে সম্ভব করেছে তারা। শুভেন্দু অধিকারী নিজে এই প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রেখেছেন।
তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ ছিল কোনও অজুহাতে কাজ আটকে রাখা চলবে না। ফলে যে কাজ ১৫ বছর ধরে ঝুলছিল, তা শেষ হল মাত্র কয়েক সপ্তাহে।কলকাতার সাধারণ মানুষ এই খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্পের দেরি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছিল। তৃণমূল সরকার বারবার দাবি করত যে, ট্রাফিক সমস্যা, প্রযুক্তিগত জটিলতা এবং অন্যান্য কারণে কাজ আটকে আছে। কিন্তু বাস্তবে রাজনৈতিক অনিচ্ছাই ছিল প্রধান বাধা বলে অভিযোগ উঠেছে।
অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এই ধরনের প্রকল্প আটকে রেখে রাজ্যের উন্নয়নকে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছিল।এখন আরভিএনএল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাকি কাজও দ্রুত শেষ করে পুরো করিডর চালু করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। নিউ গড়িয়া-এয়ারপোর্ট লাইন চালু হলে দক্ষিণ কলকাতার লক্ষ লক্ষ মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। বিশেষ করে সেক্টর ফাইভ, রুবি, বিজি রোড এলাকার কর্মজীবী মানুষ বড় উপকৃত হবেন।













