
আজ, সোমবার দুপুর ১২টায় নবান্নে রাজ্যের সমস্ত দপ্তরের সচিবদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) । প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কাজের অগ্রগতি, চলমান প্রকল্পগুলির বর্তমান পরিস্থিতি এবং আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়েই মূলত এই বৈঠকে আলোচনা হবে। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও গতিশীল এবং কার্যকর করে তুলতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতাতেই এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
নবান্ন সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) প্রতিটি দপ্তরের কাজ আলাদা করে পর্যালোচনা করতে পারেন। কোন দপ্তরের কাজ কতটা এগিয়েছে, কোথায় সমস্যা রয়েছে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তা নিয়ে সচিবদের কাছ থেকে সরাসরি রিপোর্ট চাইতে পারেন তিনি। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা দ্রুত পৌঁছে দিতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, সেই বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।
রাজ্যে পালাবদলের পর এখনও পর্যন্ত বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর নিজের হাতেই রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী(Suvendu Adhikari) । প্রশাসনিক মহলের মতে, এর মাধ্যমে তিনি সরাসরি প্রশাসনের উপর নজরদারি বজায় রাখতে চাইছেন। অর্থ, স্বরাষ্ট্র, উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, পুর ও নগরোন্নয়ন-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের কাজের উপর তাঁর বিশেষ নজর রয়েছে বলেই জানা গিয়েছে। তাই এই বৈঠকে বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকদের স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হতে পারে যে কাজের গতি এবং স্বচ্ছতা দুই ক্ষেত্রেই কোনওরকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।
বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রশাসনিক ইস্যু এবং জনমুখী প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার প্রেক্ষিতে এই বৈঠক যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিভিন্ন জেলার উন্নয়নমূলক কাজ, রাস্তা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা ব্যবস্থা, কৃষি সহায়তা এবং কর্মসংস্থান সংক্রান্ত প্রকল্পগুলির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। প্রশাসনিক সূত্রের মতে, যেসব প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চলছে, সেগুলিকে দ্রুত সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।
এছাড়াও আগামী দিনে রাজ্য সরকারের নতুন কর্মসূচি বা জনকল্যাণমূলক প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ বাড়ানো এবং প্রশাসনিক কাজকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করে তুলতে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে, সে বিষয়েও মুখ্যমন্ত্রী সচিবদের মতামত জানতে পারেন। একইসঙ্গে বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উপরও জোর দেওয়া হতে পারে।












