নয়াদিল্লি: আজ, ১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Union Budget)লোকসভায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করেছেন। এটি তাঁর টানা নবম বাজেট, যা করদাতাদের জন্য একাধিক স্বস্তির ঘোষণা নিয়ে এসেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলোর মধ্যে একটি হলো আয়কর রিটার্ন (আইটিআর) জমা দেওয়ার সময়সীমা নিয়ে। অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে, আইটিআর-১ এবং আইটিআর-২ ফর্মে রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩১ জুলাই-ই থাকছে, কিন্তু নন-অডিট ব্যবসায়িক কেস এবং ট্রাস্টের জন্য সময়সীমা বাড়িয়ে ৩১ আগস্ট করা হয়েছে।
এছাড়া রিভাইজড রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর থেকে বাড়িয়ে ৩১ মার্চ করা হয়েছে, যদিও এর জন্য একটা নামমাত্র ফি দিতে হবে।বাজেট ভাষণে নির্মলা সীতারামন বলেছেন, “আমি প্রস্তাব করছি যে, রিভাইজড রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় ৩১ ডিসেম্বর থেকে বাড়িয়ে ৩১ মার্চ পর্যন্ত করা হোক, যাতে করদাতারা একটা নামমাত্র ফি দিয়ে ভুল সংশোধন করতে পারেন।
এছাড়া রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সূচীকে স্ট্যাগার্ড করা হচ্ছে আইটিআর-১ এবং আইটিআর-২ দিয়ে রিটার্ন জমা দেওয়া ব্যক্তিদের জন্য ৩১ জুলাই-ই থাকছে, আর নন-অডিট ব্যবসায়িক কেস বা ট্রাস্টের জন্য ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময় দেওয়া হচ্ছে।” এই পরিবর্তনগুলো নতুন ইনকাম ট্যাক্স অ্যাক্ট ২০২৫-এর সঙ্গে যুক্ত, যা ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। সরকারের লক্ষ্য কর প্রশাসনকে আরও সহজ, ডিজিটাল এবং করদাতা-বান্ধব করে তোলা।
এই ঘোষণা সাধারণ করদাতাদের জন্য বড় স্বস্তি। আইটিআর-১ এবং আইটিআর-২ মূলত বেতনভোগী, পেনশনার এবং ছোট আয়ের ব্যক্তিদের জন্য, যাঁরা সাধারণত ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দেন। এই তারিখ অপরিবর্তিত রাখায় তাঁদের কোনো অসুবিধা হবে না, বরং নিশ্চয়তা পাবেন। অন্যদিকে, ব্যবসায়ী বা ট্রাস্টের মালিকদের জন্য এক মাস অতিরিক্ত সময় পাওয়া যাবে, যা অডিট-সম্পর্কিত জটিলতা মোকাবিলায় সাহায্য করবে।
রিভাইজড রিটার্নের সময়সীমা বাড়ানোর ফলে অনেকে ভুল ধরা পড়লে সহজেই সংশোধন করতে পারবেন, যা আগে ডিসেম্বরের পর কঠিন হয়ে যেত। নামমাত্র ফি দিয়ে এই সুবিধা পাওয়া যাবে বলে লিটিগেশনও কমবে।এই পরিবর্তনগুলো কর প্রশাসনের সাম্প্রতিক সংস্কারের ধারাবাহিকতা।
ফেসলেস অ্যাসেসমেন্ট, দ্রুত রিফান্ড এবং অন্যান্য ডিজিটাল উদ্যোগের পর এখন সময়সূচী স্ট্যাগার্ড করা হচ্ছে যাতে ট্যাক্স ডিপার্টমেন্টের চাপ কমে এবং করদাতারা আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে স্বেচ্ছায় কমপ্লায়েন্স বাড়বে এবং রাজস্ব আদায়ও সুষ্ঠু হবে। তবে কিছু সমালোচক মনে করছেন, অতিরিক্ত সময় দেওয়া হলে কিছু ক্ষেত্রে দেরি বাড়তে পারে, কিন্তু সামগ্রিকভাবে এটা ইতিবাচক পদক্ষেপ।




















