মুম্বই: প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সাক্ষরিত হল ভারত-মার্কিন ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি। এর প্রভাবে সপ্তাহের শুরুতেই জোয়ার এল ভারতের শেয়ার বাজারে। সোমবার বাজার খুলতেই সেনসেক্সের সূচক লাফিয়ে বাড়ল ২৩০০ পয়েন্ট। পাল্লা দিয়ে ৭০০ পয়েন্টের বেশি উত্থান দেখল নিফটিও। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন মুলুকে ভারতীয় পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে একধাক্কায় ১৮ শতাংশ করার সিদ্ধান্তই লগ্নিকারীদের মধ্যে ‘অ্যানিম্যাল স্পিরিট’ বা প্রবল উৎসাহ জাগিয়ে তুলেছে।
সূচকের দৌড়
এদিন সকাল ৯টা ৩১ মিনিট নাগাদ বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক সেনসেক্স ৮৩,৯৬৬.৯৯ পয়েন্টে লেনদেন হতে দেখা যায়, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ২২৯১ পয়েন্ট বেশি। অন্যদিকে, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক নিফটি-৫০ রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে লেনদেন হয় ২৫,৭৯০.৪০ পয়েন্টে। গত কয়েক মাস ধরে শুল্ক সংক্রান্ত যে অনিশ্চয়তা বাজারকে চেপে ধরেছিল, মুহূর্তের মধ্যে তা কর্পূরের মতো উবে যায়।
বিশেষজ্ঞের চোখে ‘গেম চেঞ্জার’ Sensex jumps 2300 points
জিওজিত ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের প্রধান স্ট্র্যাটেজিস্ট ভি কে বিজয়কুমার এই চুক্তিকে ভারতের অর্থনীতির জন্য এক ‘যুগান্তকারী মুহূর্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি পিছিয়ে যাওয়াই ছিল বাজারের জন্য প্রধান অন্তরায়। শুল্ক কমানোর এই সিদ্ধান্ত ২০২৭ অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.৫ শতাংশে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। এর ফলে কর্পোরেট আয় যেমন বাড়বে, তেমনই শক্তিশালী হবে ভারতীয় টাকা।”
উজ্জ্বল কোন কোন ক্ষেত্র?
বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই চুক্তির ফলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে টেক্সটাইল বা বস্ত্রবয়ন শিল্প। এ ছাড়াও আইটি, টেলিকম এবং ব্যাঙ্কিং সেক্টরের ব্লু-চিপ শেয়ারগুলিতে বিদেশি লগ্নিকারীদের (FII) বিনিয়োগের ঢল নামবে বলে আশা করা হচ্ছে। কোটাক সিকিউরিটিজের শ্রীকান্ত চৌহানের মতে, টেকনিক্যাল চার্টে বাজার এখন অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে, যা আগামী কয়েকদিন শেয়ার দর আরও ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক সুসম্পর্ক এবং আসন্ন বিনিয়োগবান্ধব বাজেট শেয়ার বাজারকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে। আপাতত বাজারে বড় কোনও পতনের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে, বরং সামান্য সংশোধন বা দাম কমলেই শেয়ার কেনার সুযোগ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।




















