মুম্বই: বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও সরবরাহ শৃঙ্খলের (Supply Chain) চাপের মধ্যেও ভারতের অর্থনীতি স্থিতিশীল রয়েছে এবং বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতিগুলির অন্যতম হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)-র জুলাই মাসের বুলেটিনে প্রকাশিত ‘State of the Economy’ প্রতিবেদনে এই মূল্যায়ন করা হয়েছে।
RBI-র মতে, দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা (Domestic Demand) শক্তিশালী থাকা এবং শিল্প ও পরিষেবা খাতের স্থিতিস্থাপকতা ভারতের অর্থনৈতিক গতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
শিল্প ও পরিষেবা খাত অর্থনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছে
বুলেটিনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জিং হলেও দেশের শিল্প ও পরিষেবা খাত ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স করছে। এর ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি বজায় রয়েছে এবং সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক রয়েছে।
রপ্তানি-আমদানিতে ইতিবাচক গতি
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে বলে জানিয়েছে RBI। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সময়ে রপ্তানি ও আমদানি উভয় ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি কার্যকর হওয়া ভারত-যুক্তরাজ্য সমন্বিত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য চুক্তি (India-UK Comprehensive Economic and Trade Agreement বা CETA) এবং অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির অগ্রগতি ভবিষ্যতে বাণিজ্য আরও বাড়াতে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।
বিদেশি বিনিয়োগে আস্থা ফিরছে
RBI জানিয়েছে, ভারতের বৈদেশিক অর্থনৈতিক সূচকগুলি এখনও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে বিদেশি বিনিয়োগ (Foreign Investment)-এর প্রবাহও বেড়েছে, যা দেশের অর্থনীতির প্রতি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের নতুন করে আস্থা ফিরে আসার ইঙ্গিত দেয়।
জুলাই মাসের ২০ তারিখ পর্যন্ত বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীরা (FPI) ভারতের ইকুইটি ও ঋণ বাজারে মোট ৩.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছেন।
এছাড়া এপ্রিল ও মে মাসে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (FDI)-এর পরিমাণও আগের তুলনায় বেশি ছিল বলে জানিয়েছে RBI।
মূল্যবৃদ্ধি বেড়েছে জুনে
ইতিবাচক অর্থনৈতিক ছবির পাশাপাশি মূল্যবৃদ্ধির বিষয়েও সতর্ক করেছে RBI। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাসে খুচরো মূল্যস্ফীতি (Consumer Price Index বা CPI) বেড়ে ৪.৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যা গত ১৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। মে মাসে এই হার ছিল ৩.৯ শতাংশ। RBI জানিয়েছে, মূলত খাদ্যপণ্য এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধি-র কারণেই মূল্যস্ফীতি বেড়েছে।
কোন কোন খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে?
বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়েছে, খাদ্য মূল্যস্ফীতির উপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে:
• চাল
• গম
• ভোজ্য তেল
• আলু
• পেঁয়াজ
• টমেটো
তবে কোর ইনফ্লেশন (Core Inflation) বা খাদ্য ও জ্বালানি বাদ দিয়ে মূল্যস্ফীতির হার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছে RBI।
সতর্ক আশাবাদ RBI-র
RBI-র মূল্যায়ন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও ভারতের অর্থনীতি এখনও শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা, শিল্প ও পরিষেবা খাতের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি এবং বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি আগামী দিনে অর্থনীতির গতি ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে। তবে খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতির উপর নজর রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।
Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা
Also Read | পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব
Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা




