মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আঁচ এবার সরাসরি এসে লাগল আমজনতার রান্নাঘরে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার পর থেকেই যে জল্পনা চলছিল, অবশেষে তাতেই সিলমোহর পড়ল। দেশের গ্যাস ও জ্বালানি বাজারে এই যুদ্ধের কোনও প্রভাব পড়বে না বলে মোদী সরকারের তরফে বারবার দাবি করা হলেও, শনিবারের ছবিটা অন্য কথা বলছে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির সিদ্ধান্তে শনিবার থেকেই সারা দেশে কার্যকর হল রান্নার গ্যাসের নতুন এবং বর্ধিত দর।
পকেটে কোপ আমজনতার
ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (IOC) সূত্রে খবর, এক ধাক্কায় ১৪.২ কেজির গার্হস্থ্য এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ানো হয়েছে ৬০ টাকা। পিছিয়ে নেই বাণিজ্যিক গ্যাসও। হোটেল বা রেস্তরাঁয় ব্যবহৃত ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম একলাফে বেড়েছে ১১৫ টাকা। এই জোড়া মূল্যবৃদ্ধির ফলে শনিবার থেকে কলকাতায় গার্হস্থ্য সিলিন্ডার কিনতে গ্রাহকদের গুনতে হবে ৯৩৯ টাকা। অন্যদিকে, বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের জন্য খরচ পড়বে ১,৯৯০ টাকা। মাসের শুরুতেই এই মূল্যবৃদ্ধিতে স্বাভাবিকভাবেই মাথায় হাত মধ্যবিত্তের।
পেট্রল-ডিজেলের দাম নিয়েও বাড়ছে শঙ্কা LPG Price Hike India
রান্নার গ্যাসের দাম বাড়তেই এবার পেট্রল ও ডিজেলের দাম নিয়েও নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। যদিও ভূ-রাজনৈতিক এই অস্থিরতার মাঝেই কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী আগেই আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, “দেশের কাছে বর্তমানে পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল মজুত রয়েছে।” কিন্তু ওয়াকিবহাল মহলের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি যদি দ্রুত স্বাভাবিক না হয়, তবে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই পেট্রল-ডিজেলের দামেও বড়সড় রদবদল দেখা যেতে পারে। যদিও কেন্দ্র এখনও পর্যন্ত এই আশঙ্কায় সরকারিভাবে কোনও সিলমোহর দেয়নি।
জোগান স্বাভাবিক রাখতে বুকিংয়ে নয়া নিয়ম
জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় যাতে বাজারে কৃত্রিম হাহাকার বা প্যানিক বায়িং (Panic Buying) তৈরি না হয়, তার জন্য আগেভাগেই কড়া পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক। এলপিজি-র জোগান স্বাভাবিক রাখতে বুকিং নীতিতে বড়সড় বদল আনা হয়েছে। জারি করা নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এবার থেকে একটি সিলিন্ডার বুকিংয়ের পর দ্বিতীয় সিলিন্ডার বুক করতে হলে মাঝে অন্তত ২১ দিনের ব্যবধান থাকতে হবে। অর্থাৎ, একটি সিলিন্ডার দিয়ে গৃহস্থকে ন্যূনতম ২১ দিন চালাতেই হবে। এই পদক্ষেপের ফলে জোগান ঘাটতির যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।



