রাজ্যে আসন্ন West Bengal Assembly election 2026-এর প্রথম দফার ভোট শেষে ফের খুলে দেওয়া হলো সমস্ত লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদের দোকান ও বার। দীর্ঘ কয়েকদিনের বিধিনিষেধে সুরাপ্রেমীদের (liquor) মধ্যে যে চাপা অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল, শুক্রবার সকাল থেকেই তার অবসান ঘটে। বেলা ১১টা থেকে রাজ্যজুড়ে আবারও স্বাভাবিকভাবে শুরু হয়েছে মদের বিক্রি ও বার পরিষেবা।
ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে আবগারি দপ্তর ১৯ এপ্রিল থেকে রাজ্যের বিভিন্ন অংশে মদের দোকান বন্ধের নির্দেশ জারি করেছিল। নির্দেশ অনুযায়ী, ২১ এপ্রিল থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত প্রথম দফার ভোটকে কেন্দ্র করে সমস্ত মদের দোকান এবং বার বন্ধ রাখা হয়। এই সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু ভোটকেন্দ্রের আশপাশেই নয়, গোটা রাজ্যেই অনুভূত হয়। কারণ নির্দেশটি ১৬টি জেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সমগ্র রাজ্যে কার্যকর করা হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মানুষের একটি অংশ, বিশেষ করে নিয়মিত সুরাপ্রেমীরা, বেশ সমস্যার মুখে পড়েন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই মজার ছলে, আবার কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা দৈনন্দিন জীবনে অপ্রয়োজনীয় প্রভাব ফেলছে।
প্রথম দফার ভোট শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর শুক্রবার সকালেই আবগারি দপ্তরের তরফে নতুন নির্দেশ জারি করা হয়। তাতে জানানো হয়, সমস্ত লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদের দোকান ও বার আবার খোলা যাবে। নির্দেশ কার্যকর হতেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দোকান খোলার প্রস্তুতি শুরু হয় এবং বেলা ১১টা থেকে বিক্রিও শুরু হয়ে যায়। তবে এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী নয়। প্রশাসনের(liquor) তরফে আগেই জানানো হয়েছে, দ্বিতীয় দফার ভোটকে কেন্দ্র করে ফের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে। আগামী ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা থেকে আবারও রাজ্যের সমস্ত মদের দোকান ও বার বন্ধ হয়ে যাবে। অর্থাৎ ভোটপর্ব শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই খোলা-বন্ধের চক্র চলবে। এই পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তিও তৈরি হয়েছে প্রশাসনিক মহলে। প্রথম নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল ২১ এপ্রিল থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা থাকবে। কিন্তু পরবর্তীতে তা সমগ্র রাজ্যে কার্যকর হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে সিদ্ধান্তের প্রয়োগ নিয়ে। বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল মন্তব্য করেন যে, “আমি তো অবাক হয়ে যাচ্ছি। কেন কলকাতায় মদের দোকান বন্ধ করা হলো, আবগারি কমিশনের কাছে জানতে চাইব।”তার এই মন্তব্যের পর প্রশাসনিক স্তরে আরও আলোচনা শুরু হয়। নির্বাচন পরিচালনায় বিভিন্ন নিয়মাবলীর প্রয়োগ কতটা সঠিকভাবে হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে থাকে।




















