সোনা কিনবেন নাকি বিক্রি করবেন? ১৩ জুলাই বাজার নিয়ে কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

পশ্চিম-এশিয়ার উত্তেজনা, ফেডের সুদনীতি ও মূল্যস্ফীতির আশঙ্কায় চাপে সোনার বাজার। এখন কেনা নাকি বিক্রি, কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা জেনে নিন।

gold-price-outlook-july-13-buy-or-sell-expert-analysis

মুম্বই: চলতি সপ্তাহের শুরুতেই সোনার দামের (Gold Price) দিকে নজর রয়েছে বিনিয়োগকারী ও ক্রেতাদের। পশ্চিম-এশিয়ায় নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং মূল্যস্ফীতির আশঙ্কার মধ্যে সোনার বাজারে চাপ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আপাতত সোনার দামে নিম্নমুখী (Bearish to Neutral) প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট স্তর ভাঙলে দাম আরও কমতে পারে।

কেন চাপের মুখে সোনার বাজার?

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালীর কাছে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। এর জেরে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে এবং বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কাও জোরদার হয়েছে।
তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে মার্কিন ডলার এবং মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ফলন (Treasury Yield) শক্তিশালী হয়েছে। সাধারণত এই পরিস্থিতিতে সোনার মতো সুদবিহীন সম্পদের উপর চাপ তৈরি হয়।

Also Read | মোদী সফরে সাফল্য! এবার নিউজিল্যান্ড-ইন্দোনেশিয়াতেও চলবে ভারতের UPI

ফেডের সিদ্ধান্তের দিকেই নজর

বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ এখনও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এই সপ্তাহে প্রকাশিত হতে চলা:
• মার্কিন Consumer Price Index (CPI)
• Producer Price Index (PPI)
• ফেড চেয়ার কেভিন ওয়ার্শ-এর কংগ্রেসে বক্তব্য
এসব তথ্য সোনার দামের পরবর্তী দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

যদি মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রত্যাশার চেয়ে বেশি আসে, তাহলে সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে সোনার উপর আরও চাপ বাড়তে পারে। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি কম হলে বা ফেড নমনীয় অবস্থান নিলে সোনার বাজার কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে।

চার্ট কী ইঙ্গিত দিচ্ছে?

বিশ্লেষকদের মতে, সোনা এখনও ২০ দিনের মুভিং অ্যাভারেজের নিচে লেনদেন করছে। ফলে স্বল্পমেয়াদে বিক্রেতাদের দাপটই বেশি।
এছাড়া দৈনিক চার্টে ধারাবাহিকভাবে Lower High এবং Lower Low তৈরি হওয়ায় বাজারে দুর্বল প্রবণতা বজায় রয়েছে।

Also Read | ভারতের অর্থিনীতিতে নয়া মোড়! ব্যবসায়ী প্রতিনিধি নিয়ে তিন দেশে সফর বাণিজ্যমন্ত্রীর

গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স

বর্তমান বাজারে নজর রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্তরগুলি হল:
সাপোর্ট:
• ১,৪১,৩০০ টাকা
• ১,৩৯,২০০ টাকা
• ১,৩৭,০০০ টাকা

রেজিস্ট্যান্স:
• ১,৪৫,৮০০ টাকা
• ১,৪৮,৫০০ টাকা
• ১,৫২,৪৫০ টাকা
বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনা যদি ১,৪৫,৮০০ টাকার উপরে স্থায়ীভাবে বন্ধ হতে পারে, তাহলে বাজারে ইতিবাচক মনোভাব ফিরতে পারে। তবে ১,৪১,৩০০ টাকার নিচে নেমে গেলে সংশোধন আরও গভীর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এখন কী করবেন?

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে সোনা একটি গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট জোনে অবস্থান করছে।
• দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীরা ধাপে ধাপে কেনার সুযোগ খুঁজতে পারেন, তবে বড় বিনিয়োগের আগে বাজারের দিক পরিষ্কার হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা বুদ্ধিমানের।
• স্বল্পমেয়াদি ট্রেডারদের জন্য ১,৪১,৩০০ টাকা স্তরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই স্তর ভেঙে গেলে আরও পতনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
• অন্যদিকে ১,৪৫,৮০০- টাকার উপরে শক্তিশালী ব্রেকআউট হলে বাজারে পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত মিলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আপাতত সোনার বাজারে সতর্ক অবস্থানই সবচেয়ে উপযুক্ত। এই সপ্তাহে মার্কিন মূল্যস্ফীতির তথ্য এবং ফেডের পরবর্তী বার্তা বাজারের দিক নির্ধারণে বড় ভূমিকা নেবে।

(বিঃদ্রঃ এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত মূল্যস্তর ও বাজার বিশ্লেষণ বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। এটি কোনও বিনিয়োগের পরামর্শ নয়। বিনিয়োগের আগে নিজের আর্থিক উপদেষ্টার সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত।)