নয়াদিল্লি: পূর্ব লাদাখ এবং প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC) ও নিয়ন্ত্রণরেখা (LoC)-এর মতো তুষারাচ্ছন্ন সীমান্ত এলাকায় যুদ্ধ প্রস্তুতি আরও জোরদার করতে ভারতীয় সেনা (Indian Army,) চালু করল দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি Xtreme Weather Grade (XWG) Diesel। এই বিশেষ ডিজেল মাইনাস ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কার্যকর থাকবে, ফলে চরম ঠান্ডাতেও সেনার যুদ্ধযান ও রসদবাহী যানবাহন সচল রাখা সহজ হবে।
পূর্ব লাদাখে বর্তমানে শত শত ট্যাঙ্ক ও ইনফ্যান্ট্রি কমব্যাট ভেহিকল (ICV) মোতায়েন রয়েছে। এতদিন শূন্যের অনেক নিচে তাপমাত্রায় সাধারণ ডিজেল ঘন হয়ে ফিল্টার আটকে যেত, ফলে যানবাহন চালু রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াত।
এই সমস্যার সমাধান করতেই তৈরি হয়েছে XWG Diesel। সেনার দাবি, এই জ্বালানি BS-VI এবং IS 1460:2025 মানদণ্ড মেনে তৈরি হয়েছে। ফলে সেনাবাহিনীর বর্তমান যানবাহনে কোনও ধরনের ইঞ্জিন পরিবর্তন বা নতুন অনুমোদনের প্রয়োজন ছাড়াই এটি ব্যবহার করা যাবে।
সেনাপ্রধান এই প্রযুক্তিকে “দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি যুগান্তকারী উদ্ভাবন” বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এই জ্বালানি সেনার অপারেশনাল প্রস্তুতি ও মিশনের নির্ভরযোগ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে।
জাতীয় নিরাপত্তার অদৃশ্য রক্ষক অজিত দোভালকে লোকমান্য তিলক জাতীয় পুরস্কার
এতদিন প্রচণ্ড ঠান্ডায় ডিজেল জমে যাওয়া রুখতে সেনাদের দিন-রাত নির্দিষ্ট সময় অন্তর গাড়ির ইঞ্জিন চালু রাখতে হতো। এতে যেমন জওয়ানদের অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হতো, তেমনি দীর্ঘ সময় ইঞ্জিন চালু থাকায় যন্ত্রাংশের উপরও অতিরিক্ত চাপ পড়ত এবং ইঞ্জিনের আয়ু কমে যেত।
XWG Diesel চালুর ফলে সেই সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে বলে মনে করছে সেনা। এই বিশেষ জ্বালানি এক বছরেরও কম সময়ে ভারতীয় তেল বিপণন সংস্থাগুলির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, পূর্ব লাদাখে যুদ্ধযানগুলিকে সবসময় প্রস্তুত রাখতে সেনাবাহিনী নিয়োমা এবং দৌলত বেগ ওল্ডি (DBO) সেক্টরে বিশ্বের সর্বোচ্চ উচ্চতায় অবস্থিত দুটি সাঁজোয়া যান রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত কেন্দ্রও গড়ে তুলেছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৪,৫০০ ফুটেরও বেশি উচ্চতায় অবস্থিত এই কেন্দ্রগুলিতে T-90, T-72 ট্যাঙ্ক, BMP-2K Infantry Combat Vehicle এবং K-9 Vajra Self-Propelled Howitzer-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধযান সারাক্ষণ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়।
ভোগাপুরমের আকাশে নতুন স্বপ্ন! প্রধানমন্ত্রী মোদীর হাতে উদ্বোধন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
সেনাবাহিনীর মতে, এই নতুন জ্বালানি শুধু সীমান্তে ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাই বাড়াবে না, ভবিষ্যতে চরম শীতপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষও এর সুবিধা পেতে পারেন।





