ইডির স্ক্যানারে রিলায়েন্স গ্রুপ: বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির তালিকায় জুড়ল আরও ১৮০০ কোটি

নয়াদিল্লি: আরও সংকটে রিলায়েন্স এডিএ (ADA) গ্রুপের চেয়ারম্যান অনিল আম্বানি৷ বুধবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর তরফে জানানো হয়েছে, আর্থিক তছরুপের অভিযোগে আম্বানি গোষ্ঠীর সংস্থাগুলোর আরও ১,৮৮৫…

Anil Ambani ED Investigation

নয়াদিল্লি: আরও সংকটে রিলায়েন্স এডিএ (ADA) গ্রুপের চেয়ারম্যান অনিল আম্বানি৷ বুধবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর তরফে জানানো হয়েছে, আর্থিক তছরুপের অভিযোগে আম্বানি গোষ্ঠীর সংস্থাগুলোর আরও ১,৮৮৫ কোটি টাকার সম্পত্তি অস্থায়ীভাবে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে রিলায়েন্স গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে চলা দীর্ঘমেয়াদী তদন্তে মোট বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির আর্থিক মূল্য এখন দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২,০০০ কোটি টাকা। প্রথাগত ‘প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট’ (PMLA)-এর আওতায় চারটি আলাদা আদেশের মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি সরকারি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে বলে সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে।

বাজেয়াপ্ত নতুন সম্পত্তির তালিকা

বাজেয়াপ্ত হওয়া নতুন সম্পত্তির তালিকায় রয়েছে রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার-এর অধীনে থাকা বিএসএস যমুনা পাওয়ার, বিএসএস রাজধানী পাওয়ার এবং মুম্বই মেট্রো ওয়ান প্রাইভেট লিমিটেডের শেয়ারের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ। এছাড়াও ভ্যালু কর্প ফিন্যান্স অ্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেডের হাতে থাকা ১৪৮ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স এবং ১৪৩ কোটি টাকার পাওনা (Receivables) ইডি-র হাতে এসেছে। এমনকি আম্বানি গোষ্ঠীর উচ্চপদস্থ আধিকারিক অঙ্গরাই সেতুরামন এবং পুনীত গর্গের ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও মিউচুয়াল ফান্ডের ওপরও কোপ পড়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থার৷ নজিরবিহীন এই অভিযানে অনিল আম্বানির ব্যক্তিগত এবং কর্পোরেট, উভয় ক্ষেত্রই বড়সড় সংকট তৈরি হয়েছে৷

   

ইডি-র মূল অভিযোগ কী? Anil Ambani ED Investigation

ইডি-র মূল অভিযোগ মূলত রিলায়েন্স হোম ফিন্যান্স, রিলায়েন্স কমার্শিয়াল ফিন্যান্স এবং রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস (RCom)-কে কেন্দ্র করে। তদন্তকারীদের দাবি, ইয়েস ব্যাঙ্কের মাধ্যমে চক্রাকার পথে সাধারণ মানুষের সঞ্চিত মিউচুয়াল ফান্ডের টাকা নিয়ম বহির্ভূতভাবে আম্বানিদের সংস্থায় সরানো হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে যে, ইয়েস ব্যাঙ্ক আম্বানি গোষ্ঠীর সংস্থাগুলোতে প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিল, যা পরবর্তীকালে অনাদায়ী ঋণে (NPA) পরিণত হয়। এছাড়াও সিবিআই-এর একটি এফআইআর-এর সূত্র ধরে জানা গিয়েছে, আরকম এবং তার সহযোগী সংস্থাগুলো দেশি-বিদেশি ব্যাঙ্ক থেকে প্রায় ৪০,১৮৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল, যার বড় একটি অংশ অবৈধভাবে বিভিন্ন সহযোগী সংস্থায় পাচার করার প্রমাণ মিলেছে। ইতিপূর্বেই ন’টি ব্যাঙ্ক এই ঋণ অ্যাকাউন্টগুলোকে জালিয়াতি হিসেবে ঘোষণা করেছে। আম্বানি গোষ্ঠী অতীতে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করলেও, ১২ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি হাতছাড়া হওয়া অনিল আম্বানির ব্যবসায়িক অস্তিত্বের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াল।