নয়াদিল্লি: শুধু তেল বা বিদ্যুৎ নয়। এবার ধীরে ধীরে আদানি (Adani)গ্ৰুপ পা বাড়াচ্ছে বেসামরিক বিমান পরিষেবায়। ভারতে আঞ্চলিক বিমান তৈরির জন্য আদানি গ্রুপ এবং ব্রাজিলের এমব্রায়ারের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক অংশীদারিত্বের ঘোষণা হয়েছে। ২৭ জানুয়ারি ২০২৬-এ এই মেমোরেন্ডাম অফ আন্ডারস্ট্যান্ডিং (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। আদানি গ্ৰুপের এই পদক্ষেপ ভারতের বেসামরিক বিমান নির্মাণ ক্ষেত্রে একটা নতুন অধ্যায় শুরু করবে বলে মনে করছে বাণিজ্যিক মহল।
এমব্রায়ার, যারা ১৫০ আসন পর্যন্ত কমার্শিয়াল জেট তৈরি করে, এবং অদানি ডিফেন্স অ্যান্ড এরোস্পেসের এই সহযোগিতা ভারতের প্রথম কমার্শিয়াল বিমানের ফাইনাল অ্যাসেম্বলি লাইন (FAL) গড়ে তুলবে। লক্ষ্য টিয়ার-২ এবং টিয়ার-৩ শহরগুলোতে বিমান যোগাযোগ আরও উন্নত করা, যাতে দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি আরও গতিশীল হয়।এই অংশীদারিত্বের মধ্যে রয়েছে বিমান নির্মাণ, সাপ্লাই চেইন, আফটারমার্কেট সার্ভিস এবং পাইলট ট্রেনিং।
বন্দে ভারত স্লিপারের মেনু বদল! মিলবে আমিষ খাবার, কী থাকবে মেনুতে?
আদানির বিমানবন্দর পরিকাঠামো, এরোস্পেস ম্যানুফ্যাকচারিং, এমআরও সার্ভিস এবং ট্রেনিংয়ের অভিজ্ঞতা এবং এমব্রায়ারের বিশ্বমানের ইঞ্জিনিয়ারিং ও বিমান তৈরির দক্ষতা একসঙ্গে কাজ করবে। জয়েন্ট স্টেটমেন্টে বলা হয়েছে, প্রথমে অ্যাসেম্বলি লাইন স্থাপন করা হবে, তারপর ধাপে ধাপে স্থানীয়করণ বাড়ানো হবে যা ভারতের রিজিওনাল ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফট (RTA) প্রোগ্রামকে এগিয়ে নেবে।
এটা আত্মনির্ভর ভারত এবং উড়ান স্কিমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।অদানি ডিফেন্স অ্যান্ড এরোস্পেসের ডিরেক্টর জিত অদানি বলেছেন, “আঞ্চলিক বিমান চলাচল অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের মেরুদণ্ড। উড়ানের মতো উদ্যোগ টিয়ার-২ ও টিয়ার-৩ শহরগুলোতে বিমান যোগাযোগ বদলে দিচ্ছে। এমন একটা স্থানীয় বিমান ব্যবস্থা দরকার হয়ে পড়েছে।
এই অংশীদারিত্ব ভারত-ব্রাজিলের কৌশলগত সম্পর্ককেও মজবুত করবে।” এমব্রায়ারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভারত তাদের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ বাজার। এই সহযোগিতা এমব্রায়ারের E-Jets ফ্যামিলিকে টিয়ার-২ ও টিয়ার-৩ শহরগুলোতে নতুন সম্ভাবনা খুলে দেবে, যা ‘ব্লু ওশান’ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।ভারত বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বাড়তে থাকা বিমান বাজার।
কিন্তু টিয়ার-২ ও টিয়ার-৩ শহরগুলোতে এখনো যোগাযোগ সীমিত। উড়ান স্কিমের অধীনে অনেক নতুন রুট খোলা হয়েছে, কিন্তু উপযুক্ত ছোট-মাঝারি বিমানের অভাব রয়েছে। এমব্রায়ারের E-Jets (যেমন E175, E195) ৭০-১৫০ আসনের, যা ছোট রানওয়ে এবং কম যাত্রীসংখ্যার রুটের জন্য আদর্শ। এই বিমানগুলো ভারতে তৈরি হলে খরচ কমবে, স্থানীয় চাকরি বাড়বে এবং আমদানি নির্ভরতা কমবে।
অদানির বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা এখানে বড় ভূমিকা নেবে।এই MoU-এর ঘোষণা হয়েছে সিভিল এভিয়েশন মন্ত্রকের এক অনুষ্ঠানে, যেখানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাম মোহন নাইডু উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেছেন, এটা ভারতের বিমান ব্যবস্থার স্বনির্ভরতার একটা মাইলফলক। প্রথম বিমান রোলআউট হতে পাঁচ বছরের মধ্যে সম্ভব। অবস্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি, কিন্তু কয়েকটা জায়গা দেখা হচ্ছে। গ্রাহকদের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। সরকার স্থানীয়ভাবে তৈরি বিমান কেনার জন্য ট্যাক্স ছাড়ের মতো ইনসেনটিভ দিতে পারে।




















