কলকাতা: বাংলার বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। (BJP Sankalp Patra)এই আবহেই আগামী সপ্তাহে তাদের বহুল প্রতীক্ষিত ‘সংকল্প পত্র’ প্রকাশ করতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। সূত্রের খবর, এবার রাজ্যে ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে একাধিক জনমুখী প্রতিশ্রুতি রাখতে চলেছে গেরুয়া শিবির, যার কেন্দ্রে থাকছে মহিলাদের আর্থিক সহায়তা, যুবকদের কর্মসংস্থান এবং বড় শিল্প বিনিয়োগ।
সূত্রের খবরে জানা গিয়েছে, মহিলাদের জন্য মাসিক ৩০০০ টাকা ভাতা চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতে পারে, যা বর্তমানে চালু থাকা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি বেকার যুবকদের জন্যও মাসে ৩০০০ টাকা ভাতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকতে পারে, যার সম্ভাব্য নাম ‘যুব সাথী’। রাজ্যের নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চারটি অগ্নিবীর নিয়োগ শিবিরের ঘোষণা করা হতে পারে। এছাড়াও ভারতীয় সেনাবাহিনীতে একটি পৃথক ‘বেঙ্গল রেজিমেন্ট’ গঠনের প্রস্তাবও রাখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা এবং সামাজিক পরিবেশ নিয়েও বড় বার্তা দিতে চলেছে বিজেপি। এছাড়াও বিজেপি ‘জিহাদমুক্ত বাংলা’ গড়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই স্লোগানকে কেন্দ্র করে ভোটের আগে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। শিল্প ও পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও একাধিক বড় ঘোষণা থাকতে পারে।
আরও দেখুনঃ ৪৭ মিলিয়নের চুক্তি! ভারতে আসছে রাশিয়ার টুঙ্গুস্কা এয়ার ডিফেন্স
সিঙ্গুরে জমির মালিকদের সম্মতি নিয়ে নতুন করে শিল্প হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় আরও শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার রূপরেখা রাখা হচ্ছে। সমুদ্র থেকে পাহাড় পর্যন্ত নতুন সড়কপথ নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও থাকছে, যা পর্যটন এবং বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
এছাড়াও, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিধান চন্দ্র রায়ের উত্তরাধিকারকে সামনে রেখে একটি নতুন শহর গড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমস্যার ‘স্থায়ী সমাধান’ করার কথাও উল্লেখ থাকতে পারে এই সংকল্প পত্রে। ভাষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাজবংশী ও কুড়মালি ভাষাকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকতে পারে। পাশাপাশি রামসার সাইটগুলির সংরক্ষণ এবং পরিবেশ রক্ষার দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা থাকতে পারে। রাজ্যে নতুন করে IIT ও IIM স্থাপনের প্রতিশ্রুতি এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনা তুলে ধরা হতে পারে। এছাড়া গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা রাজ্যের বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে নতুন দিশা দিতে পারে।মৎস্যজীবীদের জন্য বিশেষ পরিকল্পনাও এই সংকল্প পত্রে জায়গা পেতে পারে। বিজেপির বিরুদ্ধে যে প্রচার চলছে তারা ক্ষমতায় এলে মাছ খাওয়া বন্ধ করে দেবে সেই অভিযোগের পাল্টা দিতেই এই উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে।




















