বড়জোড়া: রবিবাসরীয় দুপুরে সাদা ধবধবে পাজামা-পাঞ্জাবি, গলায় একাধিক উত্তরীয় আর ব্র্যান্ড পার্টির ট্যাগ ঝুলিয়ে নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়ে এক অভূতপূর্ব কাণ্ড ঘটালেন বড়জোড়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি (BJP) প্রার্থী বিল্লেশ্বর সিনহা। গদারডিহি গ্রামে প্রচার কর্মসূচির মাঝেই হঠাৎ তিনি এক নির্মীয়মাণ বাড়ির দিকে পা বাড়ান। সেখানে কর্মরত রাজমিস্ত্রীর হাত থেকে কূর্ণি নিয়ে রীতিমতো ইঁটের উপর ইঁট সাজিয়ে দেওয়াল গাঁথার কাজ শুরু করে দেন!
এই দৃশ্য দেখে প্রথমে হতবাক হয়ে যান গ্রামবাসী। কেউ কেউ হাততালি দেন, কেউ কেউ মোবাইলে ভিডিয়ো তুলতে থাকেন। কিন্তু বেশিরভাগের মুখেই প্রশ্ন, এটা কি প্রচারের নতুন স্টাইল, না সত্যিই ‘আমি তোমাদেরই লোক’ বোঝানোর চেষ্টা?
প্রার্থীর দাবি: “আমি গ্রামের ছেলে, কাজ করতে জানি”
পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিল্লেশ্বর সিনহা বলেন, “আমি এখানকারই ছেলে। গ্রামের মানুষের সঙ্গে থেকে বড় হয়েছি। রাজমিস্ত্রির কাজ দেখে দেখে আমারও হাত খেলে। আজ প্রচারের মাঝে যখন দেখলাম কাজ চলছে, মনে হলো একটু সাহায্য করি। এটা কোনো নাটক নয়, এটা আমার স্বাভাবিক প্রকৃতি।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি চাই গ্রামের মানুষ দেখুক—আমি শুধু ভোট চাইতে আসিনি, কাজ করতেও জানি।”
বিরোধীদের টিপ্পনি: “দেওয়াল গাঁথা হলো, কূর্শি গাঁথা হবে কি?”
এই ঘটনা নিয়ে বিজেপি বিরোধী শিবিরে টিপ্পনির ঝড় উঠেছে। তৃণমূলের এক স্থানীয় নেতা নাম প্রকাশ না করে বলেন, “পোশাক দেখে মনে হচ্ছিল বিয়েবাড়ি থেকে এসেছেন। হঠাৎ কূর্ণি হাতে নিয়ে দেওয়াল গাঁথা শুরু, এটা কি নতুন প্রচারের ফর্মুলা? দেওয়াল মজবুত হলো কি না জানি না, কিন্তু ভোটের পর কূর্শি দখল হবে কি না সেটাই দেখার।” আরেক কর্মী মন্তব্য করেন, “ভোট বড় বালাই! এখন তো সবাই অভিনয় করছে।”
গ্রামবাসীর মিশ্র প্রতিক্রিয়া
গদারডিহি গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা বলছেন, প্রার্থীর এই কাজ দেখে ভালো লেগেছে। এক মহিলা বলেন, “যে লোকটা নিজে এসে হাত লাগাল, সে হয়তো আমাদের কথা বুঝবে।” তবে অনেকে বলছেন, “একদিনের কাজ দেখে কী হবে? দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের উন্নয়ন চাই।”
বড়জোড়া বিধানসভা কেন্দ্রে এবার ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা। বিজেপি, তৃণমূল এবং বাম-কংগ্রেস জোট—সবাই চেষ্টা করছে ভোটারদের মন জয় করতে। বিল্লেশ্বর সিনহার এই ‘দেওয়াল গাঁথা’ প্রচার কতটা ভোটে কাজে লাগবে, তা এখন দেখার বিষয়।
তবে একটা কথা স্পষ্ট, বাঁকুড়ার গ্রামে এই ঘটনা এখন ‘ভাইরাল’। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে৷ আর লোকে বলাবলি করছে, “প্রার্থী না, মিস্ত্রি প্রার্থী!”




















