কলকাতা: বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের আবহে ভোটারদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। (Bhatpara Municipality)এই আবহেই ভাটপাড়া পৌরসভায় একটি গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। বিজেপি নেতা ও নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী অর্জুন সিং সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে ভাটপাড়া পৌরসভার ফাইন্যান্স অফিসার সুশান্ত সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।
তিনি দাবি করেছেন, সরকারি কর্মকর্তা সুশান্ত সরকার অনুমোদিতভাবে তাঁর গাড়ির উপরে নিল ব্লু বিম (ব্লু বিম লাইট) ব্যবহার করছেন, যা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের পাশাপাশি অবৈধ সুবিধা নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।অর্জুন সিং লিখেছেন, নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে যে, সুশান্ত সরকার ঠিকাদারদের বিল পরিশোধের বিনিময়ে ১ শতাংশ কমিশন আদায় করছেন।
আরও দেখুনঃ ঝালমুড়ি পর্বে মাঠে নামলেন মদন মিত্র, নিশানায় মোদী
তিনি নিজেকে শাসক দলের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করে এই অবৈধ লেনদেন চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন অর্জুন। আরও চাঞ্চল্যকর দাবি হল তিনি নিজে সরাসরি টাকা সংগ্রহ না করে, নিল বিম লাগানো গাড়ি ব্যবহার করে নাকা চেকিং এড়িয়ে অবৈধভাবে সংগৃহীত অর্থ পরিবহন করছেন। এতে করে পুলিশ বা অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে যাওয়া সহজ হয় বলে মনে করা হচ্ছে।

নির্বাচনের সময় একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন কার্যকলাপকে অর্জুন সিং ‘গুরুতর অনিয়ম’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি নির্বাচন কমিশনের এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে অনুরোধ জানিয়েছেন যে, এই ঘটনার তাৎক্ষণিক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তাঁর মতে, নির্বাচনী সময়ে সরকারি কর্মকর্তাদের এ ধরনের আচরণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট করতে পারে।
ভাটপাড়া এলাকা দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু। অর্জুন সিংয়ের ছেলে পবন সিংও ভাটপাড়া কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী। এই অঞ্চলে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। অর্জুন সিংয়ের এই অভিযোগকে তৃণমূল শিবির অবশ্য ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উড়িয়ে দিতে পারে, কিন্তু বিজেপি কর্মীরা এটিকে শাসক দলের ‘দুর্নীতির’ প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছেন। স্থানীয় ঠিকাদার মহলে অবশ্য ফিসফাস চলছে যে, বিল আটকে রেখে কমিশন নেওয়ার অভিযোগ আগেও উঠেছে।
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুসারে, মডেল কোড অব কন্ডাক্ট (এমসিসি) চলাকালীন সরকারি কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষ থাকতে হয়। কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা দেখানো বা অবৈধ সুবিধা নেওয়া একেবারেই নিষিদ্ধ। নিল বিম ব্যবহার সাধারণত পুলিশ, প্রশাসনিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা জরুরি পরিষেবার জন্য অনুমোদিত। একজন পৌরসভার ফাইন্যান্স অফিসারের এভাবে ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।




















