
কলকাতা: ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে ভোট গণনার দিন এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। (Bhabanipur)সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৩ রাউন্ড গণনার পর আচমকাই গণনা প্রক্রিয়া থমকে যায় এবং প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে গণনা বন্ধ থাকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
সূত্রের খবর, গণনাকেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ এবং প্রার্থীর বৈধ পরিচয়পত্র ছাড়া ঢোকার অভিযোগকে ঘিরেই মূলত এই বিতর্কের সূত্রপাত। বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেস দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে নিয়মভঙ্গের অভিযোগ তোলে। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যার প্রভাব পড়ে গণনা প্রক্রিয়ার উপরেও।
শুধু গণনাকেন্দ্রের ভিতরেই নয়, বাইরে পরিস্থিতিও ছিল যথেষ্ট উত্তেজনাপূর্ণ। দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে বচসা থেকে শুরু করে সংঘর্ষের ঘটনাও সামনে এসেছে। ফলে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এই উত্তেজনার আবহেই নির্বাচন কমিশন হস্তক্ষেপ করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা শুরু হয়।
আরও দেখুন:ভবানীপুরে চাঞ্চল্য! স্থগিত হল গণনা
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে গণনাকেন্দ্রের ভিতরে কড়া নজরদারি চালানো হয়। যাঁরা নিয়ম ভেঙে প্রবেশ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের বিষয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মোবাইল ফোন ব্যবহার সংক্রান্ত সমস্যাও দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হয়। কিছু সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই সমস্যাগুলি মিটে যাওয়ার পর ফের গণনা শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
গণনা স্থগিত হওয়ার আগে পর্যন্ত যে ট্রেন্ড সামনে এসেছিল, তাতে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৫,৩৪৯ ভোটে এগিয়ে ছিলেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর থেকে। এই লিড ভবানীপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ এই কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, এবং এখানে ফলাফল প্রতীকী গুরুত্ব বহন করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের গণনা স্থগিত হওয়া শুধু প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জই নয়, বরং রাজনৈতিক চাপানউতোরেরও প্রতিফলন। ভোট গণনার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। সেই জায়গায় কোনও রকম বিতর্ক বা অনিয়ম সামনে এলে তা স্বাভাবিকভাবেই জনমনে প্রশ্ন তৈরি করে।
অন্যদিকে, দুই রাজনৈতিক দলই নিজেদের অবস্থানে অনড়। তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পরিকল্পিতভাবে গণনায় বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বিজেপির পাল্টা অভিযোগ, নিয়ম ভেঙে তৃণমূল সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। ফলে এই কেন্দ্রকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ছে। বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও জোরদার করা হয়েছে যাতে পুনরায় কোনও অশান্তি না ঘটে। গণনা পুনরায় শুরু হলে চূড়ান্ত ফলাফল কোন দিকে যায়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।













