নন্দীগ্রামে ‘জায়ান্ট কিলার’ শুভেন্দু সুনামিতে অস্তমিত পবিত্র

নন্দীগ্রাম: নন্দীগ্রাম আবারও বাংলার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। (Suvendu Adhikari)একাদশ রাউন্ড গণনা শেষে স্পষ্ট হয়ে উঠছে এক বড় ব্যবধান বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী এগিয়ে রয়েছেন ১৭,১৩০ ভোটে।…

suvendu-adhikari-leading-nandigram-17130-votes-election-result-2026

নন্দীগ্রাম: নন্দীগ্রাম আবারও বাংলার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। (Suvendu Adhikari)একাদশ রাউন্ড গণনা শেষে স্পষ্ট হয়ে উঠছে এক বড় ব্যবধান বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী এগিয়ে রয়েছেন ১৭,১৩০ ভোটে। এই লিড শুধু সংখ্যার হিসেব নয়, বরং রাজনৈতিক বার্তারও প্রতিফলন। নন্দীগ্রামের রাস্তায় ইতিমধ্যেই গেরুয়া আবির উড়তে শুরু করেছে, বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো। অন্যদিকে, ঢিল ছোড়া দূরত্বে থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিস কার্যত শুনশান। একে একে কর্মী-সমর্থকেরা অফিস বন্ধ করে বাড়ির পথে পা বাড়িয়েছেন। এমনকি কয়েক জায়গায় তৃণমূলের পার্টি অফিস ভাংচুরের ঘটনাও ঘটেছে বলে সূত্রের খবর।

নন্দীগ্রাম এমন এক কেন্দ্র, যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রেই হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর বহুল চর্চিত দ্বৈরথ। সেই লড়াইয়ে মাত্র ১৯৫৬ ভোটে জয়ী হয়ে শুভেন্দু ‘জায়ান্ট কিলার’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তাঁর এই জয় রাজ্য রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের সূচনা করেছিল।

Advertisements

আরও দেখুনঃ মমতা-শুভেন্দুর মোবাইল নিয়ে নেওয়ার নির্দেশ! গণনাকেন্দ্র থেকে অভিষেককে বের করল কমিশন!

তারপর ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও এই কেন্দ্র বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে প্রমাণিত হয়। তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত নন্দীগ্রামে প্রায় ৮,২০০ ভোটে লিড পায় বিজেপি। ফলে এবারের বিধানসভা নির্বাচনেও এই কেন্দ্রকে ঘিরে উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। ইতিহাস বলছে, এখনও পর্যন্ত নন্দীগ্রামে মোট ১৫ বার ভোট হয়েছে এর মধ্যে বামেরা জিতেছে ৯ বার, কংগ্রেস ২ বার, তৃণমূল ২ বার এবং বিজেপি একবার। তবে সাম্প্রতিক ফলাফলের ট্রেন্ড বলছে, এই সমীকরণ দ্রুত বদলাচ্ছে।

২০২৬ সালের এই নির্বাচন শুধুমাত্র একটি সাধারণ ভোটযুদ্ধ ছিল না। এটি ছিল দুই ভিন্ন রাজনৈতিক দর্শনের সংঘাত। একদিকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বাংলা অস্মিতা’র স্লোগান, অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের নেতৃত্বে বিজেপির শক্তিশালী প্রচার। দুই দফায় ২৯৪টি আসনে এই লড়াই অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রথম দফায় ২৩ এপ্রিল ১৫২টি আসনে এবং দ্বিতীয় দফায় ২৯ এপ্রিল বাকি ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়। মোট ৮০ হাজারের বেশি বুথে ভোট পড়ে এবং প্রায় ৬ কোটি ৮২ লক্ষ ভোটার অংশ নেন। ভোটের হার ছিল প্রায় ৯২.৯৩ শতাংশ যা একপ্রকার রেকর্ড।

এই নির্বাচনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ছিল এসআইআর বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, যা মোট ভোটারের প্রায় ১২ শতাংশ। এই বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল অভিযোগ তোলে যে বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিজেপি দাবি করে, বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের নামই কেবল ছাঁটাই করা হয়েছে। ফলে এই ইস্যু ভোটের আগে থেকেই উত্তেজনার পারদ বাড়িয়ে দেয়।