ব্যারাকপুর: তৃণমূলের দখল থেকে কংগ্রেস অফিস উদ্ধার করে ফিরিয়ে দিল বিজেপি কর্মীরা। (Barrackpore)ব্যারাকপুরে একটি ঘটনায় রাজনৈতিক সমীকরণ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের লোকজন দখল করে নেওয়া কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয় বিজেপি কর্মীরা ফিরিয়ে দিয়েছেন কংগ্রেসের হাতে। এই ঘটনা বাংলার মাটিতে তৃণমূল শাসনের বাস্তব চেহারা আরও একবার সামনে এনেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোটের পরবর্তী সময়ে ব্যারাকপুরের একটি এলাকায় তৃণমূল সমর্থকরা কংগ্রেসের অফিস দখল করে নেন। অফিসের ভিতরে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে তাঁরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে বিজেপি কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং শান্তিপূর্ণভাবে অফিস উদ্ধার করে কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের হাতে ফিরিয়ে দেন। এই ঘটনায় স্থানীয় কংগ্রেস কর্মীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন।
আরও দেখুনঃ ৯ মে মেগা শপথ, কখন-কোথায় হবে মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান?
একজন স্থানীয় কংগ্রেস কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “তৃণমূলের আমলে আমরা কতটা অসহায় ছিলাম, তা শুধু আমরাই জানি। অফিস দখল, মিটিং করতে না দেওয়া, কর্মীদের উপর হামলা এসব তো নিত্যদিনের ঘটনা ছিল। বিজেপি কর্মীরা না এলে হয়তো আজও অফিস ফিরে পেতাম না।” বিজেপির স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন, তাঁরা কোনও রাজনৈতিক ফায়দা নয়, শুধু ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন।
এক বিজেপি নেতা বলেন, “তৃণমূলের অত্যাচারে বিরোধী দলগুলোর অস্তিত্বই বিপন্ন হয়ে পড়েছিল। আমরা চাই না কোনও দলের কর্মীরা ভয়ে থাকুক। ব্যারাকপুরের মানুষ এখন শান্তি চায়।” এই ঘটনা বাংলার রাজনীতির একটা বড় বাস্তবতা তুলে ধরেছে। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল শাসনে বিরোধী দলের কর্মী-সমর্থকরা কী ধরনের চাপের মধ্যে ছিলেন, তার অনেক উদাহরণ রয়েছে। বিশেষ করে কংগ্রেস কর্মীরা বারবার অভিযোগ করেছেন যে তাঁদের অফিস, কর্মীদের উপর হামলা এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
অনেক কংগ্রেস কর্মী এখন খোলাখুলি বলছেন, মাটির স্তরে তৃণমূলের শাসন কেমন ছিল তা দিল্লির নেতৃত্ব হয়তো পুরোপুরি বুঝতে পারছেন না।ব্যারাকপুরের এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, “কংগ্রেসের ছেলেরা অনেকদিন ধরে ভয়ে ভয়ে ছিল। তৃণমূলের লোকেরা বলত, এটা আমাদের এলাকা, তোমরা কী করবে? আজ যখন বিজেপি কর্মীরা অফিস ফিরিয়ে দিল, তখন অনেকেই অবাক হয়েছেন।
এটা শুধু একটা অফিস নয়, এটা একটা বার্তা বিরোধীদের আর দমিয়ে রাখা যাবে না।”রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের ঘটনা দেখিয়ে বোঝা যাচ্ছে যে বাংলায় বিরোধী ঐক্যের সম্ভাবনা নতুন করে তৈরি হতে পারে। যদিও কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এখনও তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখার কৌশল নিয়ে চিন্তাভাবনা করছেন, তবে রাজ্যের কর্মীরা মাটির স্তরে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, তা একেবারে ভিন্ন।




















