ঢাকা: গাজীপুর-২ আসনে বিএনপির পূর্বনির্ধারিত শেষ নির্বাচনী সমাবেশকে ঘিরে টঙ্গীতে (BNP rally)ঘটে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। গ্যাস বেলুন বিস্ফোরণে শিশু-কিশোরসহ বিএনপির নেতাকর্মী মিলিয়ে অন্তত ২১ জন দগ্ধ হয়েছেন। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় এই ঘটনা ঘটতেই পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী সমাবেশকে সামনে রেখে টঙ্গীবাজারের একটি কক্ষে গ্যাস বেলুন মজুত করে রাখা হয়েছিল। সমাবেশের আগে সেগুলো বের করার সময় কয়েকজন সেখানে যান। সেই সময়ই হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনে দগ্ধ হন উপস্থিত বহু মানুষ। ঘটনাস্থলে চিৎকার-চেঁচামেচি ও ছুটোছুটি শুরু হয়ে যায়।
আরও দেখুন: আয়ুষ মন্ত্রকের কর্মসূচিতে নিরাপদ ওষুধ ব্যবহারের বার্তা কলকাতায়
দুর্ঘটনার পরপরই আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের মধ্যে গুরুতর আহত ১৯ জনকে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয় উন্নত চিকিৎসার জন্য। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অনেকের শরীরের বড় অংশ দগ্ধ হয়েছে এবং কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
দগ্ধদের মধ্যে রয়েছেন রমজান (১৮), রাফি (১২), বিজয় (১৬), তাসিন (১৮), সিয়াম (১৬), মিনহাজ (১৭), অনিক (২৪), হাসু (৩৮), হাসনাত (১৮), হাসনাত (২২), রুবেল (৩৪), আলামিন (২১), রাব্বি (১২), হৃদয় (১৮), শাওন (২০), ইমাম (১৪), নির্জন (২২) ও মারুফ (২২) সহ আরও কয়েকজন। তাদের বেশিরভাগই স্থানীয় বাসিন্দা বা সমাবেশে যুক্ত কর্মী বলে জানা গেছে।
জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান জানান, আহতদের জরুরি বিভাগে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জানা গেছে, অনেকেই প্রায় ১২ শতাংশ পর্যন্ত দগ্ধ হয়েছেন। তবে কয়েকজনের অবস্থা এখনও উদ্বেগজনক, তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, “এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক একটি ঘটনা। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস বেলুন ফোলানোর সময় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।” তিনি আরও জানান, ঘটনাটির পেছনে অন্য কোনো কারণ বা নাশকতার যোগসূত্র আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিএনপির স্থানীয় নেতারা ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে ছুটে যান। তারা আহতদের খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসা সহায়তার বিষয়টি তদারকি করেন। দলীয় নেতারা এটিকে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা বলে উল্লেখ করে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের শব্দ এতটাই জোরালো ছিল যে আশপাশের ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠে। অনেকেই ভয় পেয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। এলাকায় কিছু সময়ের জন্য চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়।
ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। কীভাবে এই বিস্ফোরণ ঘটল এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে। আহতদের সুস্থতার পাশাপাশি পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মানুষ ও রাজনৈতিক নেতারা।




















