দাগি জঙ্গিদের মুক্তি দেওয়া ইউনূসের মুখোশ খুললেন তসলিমা

কলকাতা: বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে (Taslima Nasrin)ফের তীব্র বিতর্ক উসকে দিলেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে এক দীর্ঘ ও তীব্র ভাষার পোস্টে ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
taslima-nasrin-attacks-yunus-over-militant-release

কলকাতা: বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে (Taslima Nasrin)ফের তীব্র বিতর্ক উসকে দিলেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে এক দীর্ঘ ও তীব্র ভাষার পোস্টে তিনি অভিযোগ করেছেন, দাগি জঙ্গিদের মুক্তি দিয়ে এবং হিন্দু নির্যাতনের ঘটনাগুলিকে “লোক দেখানো পদক্ষেপে” ধামাচাপা দিয়ে ইউনূস আসলে আন্তর্জাতিক মহলকে বিভ্রান্ত করছেন।

তসলিমা নাসরিন তাঁর লেখায় দাবি করেছেন, ইউনূস এমন একজন ব্যক্তি যিনি আন্তর্জাতিক চাপ বা বিদেশি মিডিয়ায় কোনও অপরাধের খবর ছড়িয়ে পড়লেই তড়িঘড়ি বিবৃতি দেন এবং পুলিশের ‘অ্যাকশন’-এর নির্দেশ দেন। কিন্তু এই সমস্ত পদক্ষেপ বাস্তবে যে শুধুই লোক দেখানো, তার একাধিক উদাহরণ রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই কৌশলের মাধ্যমে ইউনূস সাময়িকভাবে বিদেশি মিডিয়াকে শান্ত রাখেন, আর দেশের ভেতরে ইসলামপন্থী জঙ্গিদের কার্যত ছাড় দিয়ে চলেন।

   

রেশন কার্ডধারীদের জন্য সরকারের বড় ঘোষণা, জেনে নিন নতুন নিয়ম

লেখিকার অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকার বইমেলার একটি ঘটনা। তসলিমা স্মরণ করিয়ে দেন, সব্যসাচী প্রকাশনার স্টলে তাঁর বই রাখার অভিযোগে প্রকাশকের উপর হামলা চালায় কট্টরপন্থীরা। সেই ঘটনা আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচিত হওয়ার পরই ইউনূস অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতারের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু তসলিমার দাবি, বাস্তবে ওই হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং প্রাণ বাঁচাতে প্রকাশককেই বাংলাদেশ ছাড়তে হয়েছে।

সম্প্রতি দীপু চন্দ্র দাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তসলিমা নাসরিন আরও বিস্ফোরক অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত জিহাদি মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে বর্তমানে যে গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে, তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, কিছুদিনের মধ্যেই এই অভিযুক্তদের মুক্তি দেওয়া হবে এবং সেই খবর যাতে প্রচার না হয়, তার ব্যবস্থাও করা হবে।

তসলিমা নাসরিন আরও বলেন, বাংলাদেশে নবী নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ তুলে একের পর এক হিন্দুকে হত্যা করা হলেও আজ পর্যন্ত কোনও ঘটনার প্রকৃত বিচার হয়নি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই ধরনের অভিযোগ পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়িয়ে হিন্দুদের টার্গেট করার উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা হয়। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে কোনও মুসলমানের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ ওঠে না, কিন্তু হিন্দুদের ক্ষেত্রেই বারবার এই কৌশল প্রয়োগ করা হয়।

লেখিকার আরও অভিযোগ, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বহু দাগি জঙ্গিকে ইউনূস সরকারের আমলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, মফস্বল এলাকার হিন্দু বিদ্বেষী মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে থানাস্তরে কোনও কড়াকড়ি নেই বলেও তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষায়, “আদালত পর্যন্ত যেতে না দিয়েই পিঠ চাপড়ে বিদায় করা হয়”।

চিন্ময় দাস নামের এক হিন্দু নেতার প্রসঙ্গ তুলে তসলিমা বলেন, কোনও অপরাধ না করেও তাঁকে জেলে আটকে রাখা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ইউনূস চান না হিন্দু সমাজের মনোবল বাড়ুক, আর সেই কারণেই চিন্ময় দাসের মতো নেতাদের বন্দি করে রাখা হচ্ছে।

তসলিমা নাসরিনের এই বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। সমর্থকরা বলছেন, তিনি বাংলাদেশের সংখ্যালঘু বাস্তবতার এক কঠিন চিত্র তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে, সমালোচকদের একাংশ একে অতিরঞ্জিত ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করছে। তবে একথা স্পষ্ট, তসলিমার এই পোস্ট বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নিরাপত্তা ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক নজর কাড়তে শুরু করেছে।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google