‘৮১ নয় ৩০০ ফুটের রামের মূর্তি হোক!’ সংসদে বিস্ফোরক মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান

ঢাকা: সম্প্রতি বাংলাদেশে একটি ৮১ ফুট উঁচু রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগকে (Fazlur Rahman)কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ধর্মীয় উত্তেজনা। এই উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে ইসলামপন্থীদের প্রতিবাদ এবং…

fazlur-rahman-300-feet-ram-statue-bangladesh-parliament

ঢাকা: সম্প্রতি বাংলাদেশে একটি ৮১ ফুট উঁচু রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগকে (Fazlur Rahman)কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ধর্মীয় উত্তেজনা। এই উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে ইসলামপন্থীদের প্রতিবাদ এবং নির্মীয়মান মূর্তি ভেঙে ফেলার উদ্যোগ। এমন এক উত্তাল সময়ে সংসদে দাঁড়িয়ে মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের বক্তব্য যেন এক ঝলক সতেজ বাতাস হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

তিনি বলেছেন “হিন্দুরা ৮১ ফুটের রামমূর্তি বানাচ্ছে। যারা ধর্মের ব্যবসা করেন, তারা প্রতিদিন মিছিল করে কাফেরদের দেশ ছাড়ার দাবি জানাচ্ছেন। আমি একজন মুসলমান হয়ে কেন এতে বিরক্ত হব? আমি আমার মসজিদে নামাজ পড়ি, তারা তাদের মন্দিরে পূজা দেয়। তারা মাত্র ৯ শতাংশ। এটা কি তাদের দেশ নয়?” সংসদে দাঁড়িয়ে এভাবেই প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান। তিনি আরও বলেন “যারা এই ঘটনায় উস্কানি দিচ্ছেন তাদের পোশাক দেখলেই বুঝতে পারি তারা কারা। এর সঙ্গে তিনি যোগ করেন ৮১ ফুট কেন ৩০০ ফুটের মূর্তি হোক তাতে আমাদের কি এসে যায়।”

   

আরও দেখুনঃ দীনেশের কাছে মেডিক্যাল ভিসার আবেদন ভারতকে গালি দেওয়া জামাত নেতার স্ত্রীর

ফজলুর রহমানকে সমর্থন করে রাজনৈতিক মহলের একাংশ বলেছেন ১৯৭১ সালে যাঁরা রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন, তাঁদের অনেকেই বিশ্বাস করতেন যে বাংলাদেশ হবে সকল ধর্মের, সকল জাতির মানুষের। ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টি করা যেন সেই স্বপ্নের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। ফজলুর রহমানের বক্তব্যে সেই চেতনাই প্রতিধ্বনিত হয়েছে।

রামমূর্তি নির্মাণ প্রকল্পটি নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ চলছে। কিছু ইসলামী সংগঠনের নেতারা বলছেন, এটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাঁরা মিছিল-সমাবেশ করে বলছেন, ‘কাফেররা দেশ ছাড়ো’। অথচ ইতিহাস বলে, বাংলাদেশ কখনো একক ধর্মের দেশ ছিল না। এখানে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই মিলেমিশে বাস করেছে শত শত বছর ধরে।

বাংলাদেশের সামাজিক মহলের মতে পূজা-পার্বণ, ঈদ-উৎসব একসঙ্গে উদযাপনের ঐতিহ্য এখনো অনেক গ্রামে বেঁচে আছে।একজন সাধারণ মুসলমান হিসেবে ফজলুর রহমানের প্রশ্নটি খুবই সরল কিন্তু গভীর। কেন আমরা অন্যের ধর্মীয় অনুশীলনে বাধা দেব? কেউ যদি তার বিশ্বাস অনুসারে মূর্তি বানায়, তাতে আমার নামাজে ব্যাঘাত ঘটে কি?