জামাত নেতাদের চাঁদায় না! ৮ দিন পর ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হল হিন্দু কাঠ মিস্ত্রির দেহ

ঢাকা: বাংলাদেশে হিন্দু নিধন অব্যাহত। ঢাকা জেলার নওয়াবগঞ্জ উপজেলায় এক হিন্দু কাঠমিস্ত্রির মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নারায়ণ সরকার (৫০) নামের ওই…

dhaka-nawabganj-carpenter-body-found-paddy-field

ঢাকা: বাংলাদেশে হিন্দু নিধন অব্যাহত। ঢাকা জেলার নওয়াবগঞ্জ উপজেলায় এক হিন্দু কাঠমিস্ত্রির মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নারায়ণ সরকার (৫০) নামের ওই ব্যক্তি আট দিন নিখোঁজ থাকার পর আড়িয়াল বিলের ধানক্ষেত থেকে তাঁর অর্ধগলিত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী কর্মীরা তাঁর কাছ থেকে টাকা চেয়েছিলেন।

   

টাকা দিতে না পারায় তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে স্ত্রী পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন। (Nawabganj)নারায়ণ সরকার নওয়াবগঞ্জ উপজেলার বক্সনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা। পেশায় কাঠমিস্ত্রি। সাধারণ একজন শ্রমজীবী মানুষ। সংসার চালাতে কাজ করে যেতেন প্রতিদিন। গত ৩০ মে রাত থেকে তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাননি। অবশেষে গত বৃহস্পতিবার আড়িয়াল বিলের নিকড়া এলাকার ধানক্ষেত থেকে তাঁর লাশ ভেসে উঠতে দেখেন স্থানীয়রা।

আরও দেখুনঃ বদলাচ্ছে শিলিগুড়ি টাউন স্টেশন! ৩ কোটি টাকায় ফিরছে পুরনো ঐতিহ্য

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।নারায়ণের স্ত্রী পুলিশকে জানিয়েছেন, নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন আগে স্থানীয় কয়েকজন জামায়াতে ইসলামী কর্মী তাঁর স্বামীর কাছে টাকা দাবি করেন। নারায়ণ টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়। এরপরই তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। স্ত্রী কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমার স্বামী কোনো অন্যায় করেনি। শুধু টাকা দিতে না পারার কারণে তাকে এভাবে মেরে ফেলা হয়েছে।

আমরা ন্যায়বিচার চাই।”স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকে বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নানা ধরনের চাপ ও হয়রানির ঘটনা বেড়েছে। নারায়ণ সরকারের মৃত্যুকে কেউ কেউ ‘পূর্বপরিকল্পিত হত্যা’ বলে অভিহিত করছেন। এলাকায় হিন্দু পরিবারগুলোর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। তবে পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে দুইজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে, যাদের মধ্যে একজন নারায়ণের আত্মীয়ও রয়েছেন। পুলিশ সুপার বলেছেন, “আমরা সব দিক থেকে তদন্ত করছি। কেউ দোষী হলে ছাড় পাবে না।”